ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ● নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের পূর্বের অবস্থা সম্পর্কে নিখুঁত চিত্র একেছেন হযরত জাফর রা. হাবশী বাদশা নাজ্জাশীর দরবারে। তিনি বলেন, আমরা ছিলাম জাহিলিয়্যাতের ঘোর আঁধারিয়ায় নিমজ্জিত। আমরা মূর্তি পুজা করতাম। মৃত জীব ভক্ষণ করতাম। সবধরনের নির্লজ্জ কাজ সাধন করতাম। আত্মীয়তার বাঁধন ছিন্ন করতাম। প্রতিবেশীর সাথে খারাপ আচরণ করতাম আর আমাদের সবলরা দুর্বলকে শোষণ করতো।
এমনি আরো এক চিত্র এঁকে ছিলেন ইরানের বাদশার প্রশ্নের উত্তরে হযরত মুগীরা ইবন শু’বা রা.। ইরায্দ জারদ বলেছিল, পৃথিবীতে তোমাদের চেয়ে দুর্বৃত্ত ও মন্দ স্বভাবের এবং দুরবস্থা পতিত অন্য কোনো জাতি ছিল না। আমরাই তো তোমাদের খাদ্য যোগ্যতাম। তোমরা তো আমাদের পারশ্যবাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহস পেতে না এবং এর আশাও করতে না। বর্তমানে তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে থাকলে আমাদের বিষয়ে ধোঁকায় পড়ো না। খাদ্যাভাব যদি তোমাদের এখানে এনে থাকে তবে বল আমরা তোমাদের স্বচ্ছলতা অর্জন পর্যন্ত এর ব্যবস্থা করব, সম্মানিত করবো, কাপড়-চোপড় দেব, এমন প্রশাসক নিয়োগ করবো যারা তোমাদের সাথে সহৃদয়তা প্রদর্শন করবে।
উত্তরে হযরত মুগীরা ইবন শু’বা রা. বলেছিলেন, হে স¤্রাট! আপনি আমাদের দুরবস্থা সম্পর্কে যা বলেছেন, আমাদের অবস্থা এরচেয়েও খারাপ ছিল, আমাদের খাদ্যাভাবের মতো এমন দুঃসহ খাদ্যাভাব আর কারো ছিল না। ক্ষুধায় আমরা দুর্গন্ধযুক্ত পোকা মাকড় এমন কি সাপ বিচ্ছু পর্যন্ত খেতাম। এই ছিল আমাদের খাদ্য। আমাদের ঘরবাড়ি ছিল মাটি আর পাথরের। উট বকরীর লোম দিয়ে তৈরি পোশাক পরতাম। একজন আরেকজনকে হত্যা করাই ছিল আমাদের ধর্ম। একজন আরকেজনের উপর নিপীড়ন করতাম। স্বীয় কন্যাকে নিজহাতে জীবন্ত কবর দিতাম অভাবের আশঙ্কায়। পূর্বে এই ছিল আমাদের অবস্থা।
গোত্রীয় রীতিনীতি ও আচার আচরণ ছিল তাদের কাছে প্রশ্নাতীত বিষয়। এগুলোর প্রতি অন্ধ আনুগত্য ছিল তাদের মজ্জাগত। মদ, তরবারী ও নারী এ তিনেই ছিল তাদের প্রধান আসক্তি।
মোট কথা, চারদিকে কেবল তখন অন্ধকার আর অন্ধকারের রাজত্ব। মনুষ্যত্বের ক্ষীণ চেষ্টাও তখন অবলুপ্ত প্রায়। জাহিলিয়াত ও মূর্খতার তমশায় সব কিছু আচ্ছন্ন। বিশেষ করে আরব উপদ্বীপের অবস্থা তো ছিল একবারেই পরিবর্তনের অযোগ্য। স্থবির। এরচে’ বেশী অন্ধকার আচ্ছন্নতা আর কোনো যুগে ছিল না।
ইউরোপের অবস্থা ছিল খুবই ভয়াবহ। গোটা ইউরোপ ছিল অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং তা ক্রমশই গভীর হতে গভীরতর হচ্ছিল। বর্বরতা ও অরাজকতা ছিল প্রাচীন কাল থেকেই। তাদের উদাহরণ ছিল মরা লাশের মতো ফুলে ফেঁপে ফেটে যাচ্ছিল। প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্র ইটালী, ফ্রান্স গ্রীসে চলছিল চরম অরাজকতা ও ধ্বংসের রাজত্ব। নারীদের বিষয়ে তারা বিতর্করত ছিল যে এরা মানুষ না পশু। তাদের আত্মা আছে কি নেই, তাদের মালিকানা ও ক্রয় বিক্রয়ের অধিকার আছে কি নেই।
হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনীগ্রন্থ ’খোদার পরে শ্রেষ্ঠ যিনি’ এর একটি অংশ


