জিনাত রহমান : কয়েক বছর আগে ‘বাংলাদেশে নারীর অবদান অনুসন্ধান-প্রতিবন্ধকতা, সম্পৃক্ততা ও সম্ভাব্যতা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নারীরা দৈনিক গড়ে ১৬ ঘণ্টা গৃহস্থালির কাজ করেন, যার জন্য তারা কোনো মজুরি পান না। সব মিলিয়ে প্রতিবছর তারা ৭৭ কোটি ঘণ্টা কাজ করেন, যার মোট অর্থমূল্য দাঁড়ায় ৬ হাজার ৯৮১ কোটি ডলার। এই অর্থ যদি বাংলাদেশের জিডিপিতে যুক্ত করা হতো, তাহলে এর আকার দ্বিগুণেরও বেশি হতো। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, একজন পুরুষ যে কাজ করেন, তার ৯৮ শতাংশই জিডিপিতে যুক্ত হচ্ছে, আর একজন নারীর মাত্র ৪৭ শতাংশ কাজের স্বীকৃতি জিডিপিতে মিলছে। বসতবাড়িতে রান্না-বান্না, সন্তান লালন-পালনসহ গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি জিডিপিতে নেই। এ শ্রমের আর্থিক মূল্যমানও নির্ধারণ করা হয় না।
তবে, এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও আশার কথা হলো, পুরুষের মধ্যে যেখানে বেকারত্বের হার বাড়ছে, সেখানে নারীদের বেকারত্বের হার কমছে। পুরুষের পেশা পরিবর্তনের কারণে কৃষিক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ব্যাপকহারে বেড়েছে। আবার আইটি সেক্টরে তরুন-তরুণীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে। বর্তমানে দেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী মিলিয়ে মোট যুবশক্তি রয়েছে দুই কোটির ওপরে।
সময় ব্যবহারের দিক থেকেও পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে। বিবিএস- এর সময় ব্যবহার জরিপে দেখা গেছে, কর্মজীবী একজন পুরুষ অফিস কর্মঘন্টার পর বাসায় সাধারণত কোনো কাজ করেন না। অথচ কর্মজীবী একজন নারী অফিস আওয়ারের পর বাসায় ফিরে পুরুষের চেয়ে তিনগুণ বেশি সময় কাজ করেন, যার শ্রমমূল্য নির্ধারণ করা হয় না।
বাংলাদেশে নারীর এ চিত্রের বিপরীতে বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও নারী খুব একটা এগিয়ে নেই। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্ব জুড়ে থাকা ৮৬ কোটির বেশি নারী শ্রমবাজারে তাদের পূর্ণ কর্মদক্ষতা দেখাতে পারলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হতো। এতে করে বিশ্ব জিডিপি ২৭ শতাংশ বাড়ত। তবে আশংকার বিষয় হলো, দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা কমলেও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণের হার সবচেয়ে বেড়েছে।
সারা বিশ্বে নারীর অবদান গণনায় আসুক আর না আসুক, নারী মূল্যায়িত হোক বা না হোক, স্বীকৃতি পাক কিংবা না পাক বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরির্বতনের একটা বড়ো অংশ ঘটেছে নারীর অবদানেই। শ্রমবাজারে নারীদের প্রবেশ অর্থনীতিতে তাদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নারীরা সেটা যথার্থ ভাবেই করে চলেছে।
লেখক : কলামিস্ট


