নিউইয়র্কে শোক দিবস পালন

নিউইয়র্কে শোক দিবস পালন

পাথেয় ডেস্ক : নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সম্মিলিত জোটের আয়োজনে গভীর শোক, শ্রদ্ধায় ও যথাযোগ্য মর্যাদায় সর্বজনীনভাবে পালিত হলো জাতীয় শোক ও স্মরণ দিবস। স্থানীয় সময় ১৫ই আগস্ট বুধবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় আয়োজন করা হয় চিত্র প্রদর্শনী ও বঙ্গবন্ধুর জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন স্তর ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান পরিবেশন করেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পূষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোমবাতি প্রজ্বলন করে শহীদের স্মরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর। সঞ্চালক ছিলেন কায়কোবাদ খান ও প্রকৌশলী মিজানুল হাসান। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা তোফায়েল চৌধুরী ও হাকিকুল ইসলাম খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য কামরুল আলম হীরা, সদস্য ইলিয়ার রহমান, সদস্য আসাফ মাসুক, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম রাব্বানী, ইকবাল হোসেন ও ওয়ালী হোসাইন, শেখ হাসিনা মঞ্চের সভাপতি জালালউদ্দিন জলিল, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি দরুদ মিয়া রনেল, সাধারণ সম্পাদক সুবল দেবনাথ, যুগ্ম সম্পাদক নাফিকুর রহমান তুরান, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেড এ জয় ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেফায়েতউল্লা চৌধুরী, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আশরাফুল হক, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মোর্শেদা জামান, গোপালগঞ্জ সমিতির নেতা খসরুল আলম, এমজি মুস্তফা, হেলাল মিয়া, স্বপন বিশ্বাস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক ও বেদনার দিন। এই দিনেই ঘাতকেরা সপরিবারে হত্যা করেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ইতিহাসে এ রকম নৃশংসতার নজির নেই। এই দিনে বাংলাদেশ হারিয়েছে তার স্থপতিকে, বাংলাদেশিরা হারিয়েছেন তাদের জাতির পিতাকে, বাঙালি হারিয়েছে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বাঙালিকে। ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তার নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। যতদিন বাংলাদেশ ও বাঙালি থাকবে, ততদিন জাতির পিতার নাম এ দেশের লাখো কোটি বাঙালির অন্তরে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

জাতির পিতা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে তাঁর ত্যাগ ও তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ ধারণ করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করার আহবান জানান বক্তারা।

বক্তারা এবারের শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *