পাথেয় রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের ৭ থেকে ১০ দিন আগে মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ৷ তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিন ধার্য আছে৷
নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে হেলালুদ্দীন আহমদ এ কথা বলেন৷ তিনি জানান, ‘সংসদ নির্বাচনের ২ থেকে ৩ দিন অথবা ৭ থেকে ১০ দিন আগে নির্বাচনি এলাকায় সেনাবাহিনী যাবে৷ ওই সময় নির্বাচনি এলাকায় বিজিবি (বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড)-ও মোতায়েন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন৷
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান ও যুগ্ম সচিব মোস্তফা ফারুক।
অনুষ্ঠানে মাঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সচিব বলেন, নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মাঠে থাকবে। থাকবে সেনাবাহিনীও। তাদের থাকা-খাওয়ার বিষয়গুলো নির্বাচনের মাঠ কর্মকর্তাদের তদারকি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো যাবে না। যে সব কর্মকর্তা কাজে অবহেলা করবেন তাদের বিরুদ্ধে ইসি কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, যদি কেউ নির্বাচনকে ভণ্ডুল করতে চায়, তবে আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হবে৷ নির্বাচনে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো যাবে না৷ যেসব কর্মকর্তা কাজে অবহেলা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ইসি কঠোর ব্যবস্থা নেবে৷
প্রসঙ্গত, বিএনপিসহ তাদের জোট সংসদ নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছিল৷ অন্যদিকে, এর বিরোধিতা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলেছে, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন করার কোনো সুযোগ নেই, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারে৷ বাংলাদেশে এর আগের প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই সেনা মোতায়েন হয়েছে৷ ভোটের মাঠে সেনাসদস্যরা বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতেই নিয়োজিত থাকেন৷ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছিল৷
এদিকে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সাত দফা দাবিতে জোট বাঁধা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে৷ মতিঝিলে কামাল হোসেনের চেম্বারে দুপুরে জোটের নেতাদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্ত জানান ফ্রন্টের অন্যতম নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না৷


