নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর : প্রস্তুতি নেয়ার এখনই সময়

নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর : প্রস্তুতি নেয়ার এখনই সময়

নাকাল রাজনীতির একটা অবসান হয়তো হবে ৩০ ডিসেম্বর। এ বছরের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটবে ডিসেম্বরে। জাতীয় একাদশ নির্বাচনের প্রথম ঘোষণাতেই বেঁকে বসেছিল ঐক্যফ্রন্ট। বাংলাদেশ জাতীয়তা দল সবশেষে নির্বাচনে এসেছে। তবে দাবি জানিয়েছে তারিখ পেছাতে হবে। নির্বাচন কমিশন যে দারুণ কৌশল দেখিয়েছে-একে একটা দারুণ কর্মকৌশলই বলতে হবে। পিছিয়েছে মাত্র সাত দিন।

অবশ্য বিরোধী পক্ষ চেয়েছিল আরও বেশী দিন। সেটা হয়নি। নির্বাচন কমিশন চাচ্ছে দ্রুতই নির্বাচন সারতে। সে উপলক্ষ্যেই পুন তফসিলে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে নির্বাচনে নিয়ে আসতে পারছে সবাইকে। রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ১ সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

পুনঃতফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই ২ ডিসেম্বর এবং প্রত্যাহারের দিন ৯ ডিসেম্বর।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে নির্বাচনের নতুন এ তফসিলকে। তবে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট এক মাস পিছিয়ে দেয়ার দাবি করেছে।

ভোটের তারিখ ৩০ ডিসেম্বরের পরে নেয়ার সুযোগ নেই বলেই জানিয়ে দিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। অবশ্য কেন সুযোগ নেই তার ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন। তার ভাষ্য হলো, বর্তমান সংসদের মেয়াদপূর্তি হবে ২৮ জানুয়ারি। ৩০ ডিসেম্বর ভোট হলে নতুন সরকার গঠনের জন্য হাতে সময় থাকবে ২৯ দিন। এটি খুব বড় কোনো সময় নয়।

আমরা মনে করি, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণ ইসির এখতিয়ারাধীন। ইসি যদি মনে করে তারিখ পেছানো সম্ভব তাহলে আবারও পেছাতে পারে, আবার যদি মনে করে সম্ভব নয় তাহলে নাও পেছাতে পারে।

এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা অনুচিত। নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার এখন সময়। আর কুতাহী করার সুযোগ নেই।

আমরা আশাবাদি, যথাসময়ে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হোক। সব দল তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অব্যাহতি না দেয়া পর্যন্ত তাদের অন্যত্র বদলি করা বা ছুটি দেয়া যাবে না।

আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনার বাস্তবায়ন যাতে নিশ্চিত হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। দৃষ্টি রাখতে হবে, সামনের দিনগুলোয় যেন এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, যা নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *