পাথেয় রিপোর্ট : নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনটিতে নজর থাকবে পুরো দেশের। এখানে মুখোমুখি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন দুই দলের দুই অভিজ্ঞ হেভিওয়েট নেতা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
হেভিওয়েট এই দুই নেতার আসন একই, নোয়াখালী- ৫। দুই ডাকসাইটে প্রার্থীর কারণে ফলাফল পাওয়ার আগ পর্যন্ত নোয়াখালী-৫ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কোনো দলই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
নোয়াখালী-৫ আসনটি জাতীয় সংসদের ২৭৩ নং আসন। নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলা এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়ন ও অশ্বদিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৬০ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৯ জন।
ওবায়দুল কাদের ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে ওবায়দুল কাদের দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত। একইভাবে এলাকায়ও তিনি জনপ্রিয়। গত কয়েক বছর ধরে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। দল ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও ওবায়দুল কাদের নিয়মিত এলাকায় এসে সভা-সমাবেশ, বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিস্থাপন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আগাম নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণারা চালিয়েছেন। এমনকি তার অনুপস্থিতিতেও দলীয় নেতাকর্মীও সমর্থকরা এলাকায় তার পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। সেদিক বিবেচনায় ভোটযুদ্ধে ওবায়দুল কাদের অনেকটাই এগিয়ে আছেন।
অন্যদিকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ২০০১ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনিও এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। তবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের এলাকায় অনিয়মিত উপস্থিতি ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে প্রচার-প্রচারণা ও ভোটযুদ্ধের অনেক পিছিয়ে আছেন।
গত শনিবার সকালে জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, এ প্রহসনের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীরা মাঠে থাকবে। নোয়াখালী-৫ আসনটি আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্বাচনী এলাকা, এটি আমারও নির্বাচনী এলাকা। এ এলাকায় সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করার কথা থাকলেও তা নেই। আমাকে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে ও আমার দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে সরকারি দল।
এ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ৮ জন। এ দুই হেভিওয়েট প্রার্থী ছাড়াও অন্যরা হলেন— জাতীয় পার্টির মোঃ সাইফুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু নাছের, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ সামছুদ্দোহা, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সিরাজ উল্যাহ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট বিএনএফের মমতাজ বেগম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী মোঃ জুলফিকার হায়দার।


