নৌকার পতনের ক্ষণগণনা চলছে : রুহুল কবির রিজভী

নৌকার পতনের ক্ষণগণনা চলছে : রুহুল কবির রিজভী

পাথেয় রিপোর্ট : সারাদেশে নৌকাডুবির আওয়াজ উঠেছে টের পেয়েই নির্বাচন থেকে পালানোর পথ খুঁজছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, নৌকার পতনের ক্ষণগণনা চলছে। এজন্যই সরকার ভোট থেকে পালানোর নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের নির্বাচনে অংশগ্রহণে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এজন্যই প্রশাসনকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার অশুভ চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।

গত ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১৫৮টি মামলা ও ২ হাজার ৪১৫ জনকে গ্রেফতারের অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে মামলার সংখ্যা ১৫টি ও গ্রেফতার হয়েছেন ৪২৫ জন।

বিএনপির এই নেতার আশঙ্কা, নির্বাচনের ৫ দিন আগে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই সময়ের মধ্যে তারা আওয়ামী চেতনায় সাজানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নির্বাচনী মাঠ বিরানভূমিতে পরিণত করবে।

তিনি বলেন, ‘তবে আমরা সকল বাধা অতিক্রম করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ভোটের লড়াই করে যাবো। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণই আমাদের শক্তি।’

‘সময় এখন জনগণের। অব্যাহত মামলা-হামলা, গুম-খুন, দুর্নীতি ও বিরুদ্ধে জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে। আমরা নিশ্চিত, এবার সরকারি সকল বাধা অতিক্রম করে সারাদেশে সাহসী জনতা ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনবেই।’
বন্ধ করে দেওয়া ৫৪টি নিউজ পোর্টাল অনতিবিলম্বে খুলে দিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করেন রিজভী।

এদিকে আজ বৃহস্প্রতিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফজলুল হক মিলন জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার ( ১৩ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে তার গ্রামের বাড়ি কালীগঞ্জের বর্তুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন সবুজ জানান, সকাল ১০টার দিকে ফজলুল হক মিলন গ্রামের বাড়িতে আসেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে গাজীপুর ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, ফজলুল হক মিলন সব মামলায় জামিনে ছিলেন। তারপরও এলাকায় না আসতে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। কয়েকদিন আগে তার ঢাকার বাসায় রাতে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। গ্রেফতার আতঙ্কে তিনি এতদিন এলাকায় আসেননি। তিনি গাজীপুর-৫ আসনের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানার ৭টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গাজীপুরের ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *