পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পদত্যাগ করছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস। বিভিন্ন মহল থেকে পদত্যাগের দাবি আসা সত্ত্বেও তিনি পদ ধরে রাখার এতোদিন অনড় ছিলেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের কেন্দ্রীয় অফিসে অনুষ্ঠিত খাস কমিটির এক বৈঠকে মাওলানা আবদুল কুদ্দুস পদত্যাগ করার কথা জানান।
আগামী ৩ অক্টোবর বেফাকের আমেলা বৈঠকে তিনি পদত্যাগ করবেন। খাস কমিটির বৈঠকে তার বিরুদ্ধে আনিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত নিয়েও কথা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস এর পরিবার সূত্রে জানা গেছে তিনি বলেন, আমার শাইখ ও মুর্শিদ (আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.) নেই, আমি আর কোনো পদে থাকবো না, আমাকে কেউ আর কোথাও রাখতে পারবে না। তবে পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও কেউ তাকে পদে বহাল থাকার অনুরোধ করেননি বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, মাস কয়েক আগে ফাঁস হওয়া বেফাকের বহিষ্কৃত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের সঙ্গে তার ফোনালাপে কিছু অনিয়মের বিষয় প্রকাশ পায়। তখন থেকেই তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হতে থাকে। তবে হাটহাজারী হুজুরকে দিয়ে তিনি নিজের নামে ‘সাফাইপত্র’ আনান। পরবর্তী সময়ে হাটহাজারীতে বেফাকের খাস কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে একটি কমিটিও হয়। যদিও সেই কমিটির রিপোর্ট এখনও আলোর মুখ দেখেনি।
২০১৬ সালের বেফাকের দীর্ঘ সময়ের মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদীর ইন্তেকালের পর প্রথমে ভারপ্রাপ্ত পরে কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন মাওলানা আবদুল কুদ্দুস। আল্লামা আশরাফ আলী ছিলেন বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি এবং হাইয়াতুল উলইয়ার প্রতিষ্ঠাতা কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ইন্তেকাল করলে শূন্য হয় গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ- বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি ও আল হায়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান।
একসঙ্গে তিন পদ (মহাসচিব, সিনিয়র সহসভাপতি, কো-চেয়ারম্যান) দখল করায় বেফাকের দায়িত্বশীলদের মধ্যে অনেকেই তার প্রতি ক্ষুব্ধ। সম্প্রতি কিছু ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর চরম বেকায়দায় পড়ে যান মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ও তার সহযোগীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।
/এএ


