পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: পবিত্র রমজান মাসে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একাধিক সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনাকারী সন্দেহে দুজন রোহিঙ্গা্সহ চার ব্যক্তিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ৷
মালয়েশিয়ার পুলিশ সোমবার দেশটির এক নাগরিকসহ দুই রোহিঙ্গা এবং এক ইন্দোনেশীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছে৷ আটককৃতরা রোজার সময় কুয়ালালামপুর এবং আশেপাশের এলাকায় মন্দির ও চার্চে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে দাবি পুলিশের৷
মালয়েশিয়ার পুলিশ প্রধান আব্দুল হামিদ বাদোর বলেন, আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা, একজন ইন্দোনেশীয় ও একজন মালয়েশিয়ার নাগরিক। গত ৫ থেকে ৭ মে তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।আটক হওয়া এই চার ব্যক্তি ইসলামিক স্টেট বা আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। হামিদ বলেন, তারা শুধু ইবাদতের স্থানই নয় চারজন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তি এবং বিনোদন কেন্দ্রে এই রমজান মাসেই হামলার পরিকল্পনা করছিল।
গ্রেপ্তারকৃতদের ‘‘ওল্ফ প্যাক” আখ্যা দিয়ে দেশটির পুলিশ প্রধান আব্দুল হামিদ বাদর গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘প্যাকটির সদস্যরা রমজানের প্রথম সপ্তাহে এক বড় হামলার পরিকল্পনা করেছিল৷ গত নভেম্বরে এক হিন্দু মন্দিরে জাতিগত দাঙ্গার সময় এক মুসলমান দমকলকর্মীকে পিটিয়ে মারার ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এমন হামলা চালাতে চাচ্ছিলো তারা৷ জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটকৃতরা যেসব ব্যক্তির ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল তাদের নাম প্রকাশ করে। কিন্তু আমি ওই ভিআইপিদের নাম প্রকাশ করতে পারবো না। কারণ এটি খুবই স্পর্শকাতর।”
গত বছরের ২৭ নভেম্বরে একটি হিন্দু মন্দিরের পার্কিং এরিয়ায় আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন দমকলকর্মী আদিব মোহাম্মদ কাসিম। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরেরই ১৭ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
তবে বর্ণবাদী মন্তব্য করে হিন্দু নেতারা সেই দাঙ্গা ঘটিয়েছিল বলে মনে করেন কিছু মালয় মুসলমান৷ এ নিয়ে সেদেশে মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়েছিল৷ এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হামিদ বাদর বলেন, ‘‘ইসলামকে অপমান করেছেন এবং ধর্মটির গুরুত্ব রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন এমন ব্যক্তিত্বদের হত্যারও পরিকল্পা করেছিল গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি৷”
গ্রেপ্তারকৃতদের একজন মিয়ানমার থেকে আগত বিশ বছর বয়সি এক রেস্তোরাঁ কর্মী৷ তিনি মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে সক্রিয় বিদ্রোহী গ্রুপ আরকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসার)-র সদস্য বলেও জানিয়েছেন আব্দুল হামিদ বাদর৷
উল্লেখ্য, মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছে৷ মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের কাছে নিবন্ধিত নব্বই হাজারের মতো রোহিঙ্গা বসবাস করছে৷ তবে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার হিসেবে দেশটিতে দু’ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাস করছেন৷


