পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পরমাণু গবেষণার জন্য এই প্রথমবারের মতো পরমাণু প্রকল্প চালু করছে সৌদি আরব। সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাত দিয়ে খালিজ টাইমস জানায়, দেশটির ক্ষমতাসীন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই প্রকল্প উদ্বোধন করেন।
গতকাল সোমবার মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদির কিং আবদুল আজিজ সিটি ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সফরে গিয়ে মোট সাতটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। এগুলোর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরমাণু জ্বালানি, পানির লবণাক্ততা দূরীকরণ, জেনেটিক মেডিসিন ও উড়োজাহাজের নকশাশিল্পও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো পরমাণু গবেষণা চুল্লি ও বিমান শিল্প উন্নতকরণ বলে দেশটির সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে। সৌদি আরবের বিকাশমান পরমাণুশিল্পের প্রযুক্তি উন্নয়নে গবেষণার জন্য এ চুল্লি সহায়ক হবে বলে দেশটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
বিবিসি নিউজের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিন সালমান পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে বলেন, সৌদি আরব পারমাণবিক বোমার অধিকারী হতে চায় না। কিন্তু এটা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করলে আমরাও যত দ্রুত সম্ভব এ কাজটি করবো।
এ সম্পর্কে রয়টার্স জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌদি আরব যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে তা কমাতে চাইছে দেশটি। এটা সম্ভব হলে বহির্বিশ্বে তারা আরও বেশি তেল বিক্রি করতে পারবে। এই পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হলে সৌদি আরব দ্বিতীয় উপসাগরীয় দেশ হিসেবে পারমাণবিক শক্তি প্রকল্পের অধিকারী হবে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দেশটিতে চারটি পারমাণবিক চুল্লী নির্মাণের কাজ চলছে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থার নিরাপত্তা মান রক্ষা করেই এ পরমাণু চুল্লি নির্মাণ করবে সৌদি আরব। ২.১ শতাংশ ইউরেনিয়াম অক্সাইড জ্বালানি সমৃদ্ধকরণের পরিকল্পনা থেকে চুল্লিটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সৌদি আরবের পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএসকে জানিয়েছিলেন সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তা।
ইরানের হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গত মার্চে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে ইরান যদি বোমা বানায়, তাহলে তৎক্ষণাৎ পারমাণবিক বোমা তৈরি করা হবে—সেই সময় বলেছিলেন যুবরাজ সালমান।


