ওয়ার্ল্ড ডেস্ক ● পঞ্জির খসড়ায় ১ কোটি ৩৯ লাখ মানুষের নাম ওঠেনি। এই খসড়া প্রকাশের পর তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যের বরাক উপত্যকার বাঙালিদের মধ্যে। বাঙালিরা বলছেন, নাম না ওঠা ব্যক্তিদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বাঙালি রয়েছেন। আসাম থেকে বাঙালিদের বিতাড়নের পাঁয়তারা চলছে বলে বাঙালিরা অভিযোগ করেছেন। তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
এই তালিকা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার এক সভায় তিনি ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না’ বলে আসাম সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।
আসামের রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন পড়েছিল ৩ কোটি ২৯ লাখ। এর মধ্যে রোববার রাতে প্রকাশ করা হয় পঞ্জির খসড়া। এতে উঠে আসে ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের নাম। নাম ওঠেনি ১ কোটি ৩৯ লাখ মানুষের। অর্থাৎ আবেদন করা ৪২.৫৯ শতাংশের মানুষের নাম বাদ পড়ে। এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ঘোষণা দিয়েছেন, নাগরিকত্বের সনদ না পেলে আসামে মিলবে না কোনো মৌলিক অধিকার।
এই তালিকা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তিনি বীরভূম জেলার আমোদপুরে এক সভায় বলেছেন, আসামে এখন বাঙালি খেদাওয়ের পাঁয়তারা চলছে। সেখানে যাঁরা ৩০-৪০ বছর ধরে বাস করছেন, তাঁদের নাম ওঠেনি। মমতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না। আসাম-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে অশান্তি হলে তার প্রভাব পড়বে বাংলায়। আসামে সবাই বাঙালি খেদাও করছে। আমি বলছি, বাংলার কেউ আসামে থাকলে তাঁকে বুকে করে রাখতে হবে। চক্রান্ত করে মানুষকে নিজের এলাকা থেকে সরানোর নোংরা চেষ্টা করছে বিজেপি।’
মমতা এর প্রতিবাদে কাল বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লির গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের সাংসদেরা অবস্থান ধর্মঘট করবে বলে ঘোষণা দেন। মমতা এরই মধ্যে দলীয় সাংসদদের অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।


