পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভবন ভেঙে ফেলবে ইসরায়েল

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভবন ভেঙে ফেলবে ইসরায়েল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ঘোষণা করেছেন, ‘তার কার্যালয় অধিকৃত পশ্চিম তীরের এ এবং বি অঞ্চলে ফিলিস্তিনি ভবনগুলো ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’ এই অঞ্চলগুলো বর্তমানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু তারপরেও ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক কমিটির সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন। খবর দ্য নিউ আরব।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের গভর্নিং বডির বেশিরভাগ সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দায়িত্বে রয়েছেন স্মোট্রিচ। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনি ভবনগুলো জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হিসাবে বিবেচনা করা হলে সেগুলো ধ্বংস করার অনুমতি দেওয়া হবে।

অতি ডানপন্থী এই মন্ত্রী বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত আছেন। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে এই পদক্ষেপটির বৈধতা দেওয়া এবং মন্ত্রিসভায় আনার পরিকল্পনাটি এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

স্মোট্রিচের কার্যালয়ের এই বৈঠকটি মূলত ফিলিস্তিনিদের ‘ফায়াদ প্ল্যান’ এর প্রতি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ছিল। লিকুদ পার্টির নেসেটের সদস্য আভিচায় বুয়ারনের অনুরোধে এবং লিকুদ নেসেটের সদস্য ইউলি ইওয়েল এডেলস্টেইনের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এডেলস্টেইন ফায়াদ প্ল্যানকে পশ্চিম তীরে ইহুদি সম্প্রদায়ের বসতি স্থাপনকে স্তব্ধ করার একটি ইচ্ছাকৃত পরিকল্পনা বলে অভিহিত করেছেন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়াদ ২০০৯ সালে ফায়াদ প্ল্যানের প্রস্তাব করেছিলেন। এর মাধ্যমে ১৯৬৭ সালের সীমানার মধ্যে পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকায় একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র তৈরি করতে চেয়েছিলেন তিনি।

তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা কমিটির বৈঠকে জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভবন নির্মাণের অবেদন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রত্যাখ্যান করা হয়। অপরদিকে ইহুদিদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ আবেদনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্মোট্রিচ জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের ভবনগুলো ভেঙে ফেলার পাশাপাশি একটি নতুন সীমান্ত পুলিশ ইউনিট তৈরি করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। এই পুলিশ ইউনিট পশ্চিম তীরে নির্মাণ আইন প্রয়োগ করবে।

অসলো চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের নির্ধারিত এ এবং বি অঞ্চলের ওপর ইসরায়েলের আইনত কোনো কর্তৃত্ব নেই। তারপরেও ইসরায়েলি মন্ত্রী আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনিদের ভবন ধ্বংসের পরিকল্পনা করছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *