পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের একটি বাজারে আদিবাসী অধ্যূষিত জেলা ওরাকজাইয়ের কালায়া বাজার নামক সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে ২৫ জন নিহত ও আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫ জন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন সূত্রে এই খবার জানা যায়।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন দেশটির মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২৩ নভেম্বর শুক্রবার সকালে ইমামবারগাহ এলাকার কাছে বিস্ফোরণটি হয়। আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জরুরি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচিতে অবস্থিত চীনা কনস্যুলেটে বন্দুক হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও তিন হামলাকারীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। অজ্ঞাত বন্দুকধারী দল শুক্রবার চীনা কনস্যুলেট ভবনে হামলা চালায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্মকর্তারা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একই দিনে এই দুটো হামলাকেই সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, দুটো হামলাই সন্ত্রাসীদের পূর্বপরিকল্পিত এবং এর মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো যোগসাজশ আছে। কোনোভাবেই ওই হামলাকরীদের ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর কিছু দিন আগে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নবগঠিত বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন ২৫০ জনের বেশি। বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার কাছে মাসটুং শহরে শুক্রবার বিস্ফোরণটি ঘটেছে।-খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছিল, হামলা থেকে যারা বেঁচে গেছেন, তাদের মাসটুং ও কোয়েটার আশপাশের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ সময়ে শোকাহত মানুষের ভিড় দেখা গেছে। নিহতদের কাফনের কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগা উমার বাংগালজেই বলেন, মৃত্যের সংখ্যা বেড়ে ১২৮ জন হয়েছে। ২০১৪ সালে পেশওয়ারে একটি স্কুলে তালেবান জঙ্গিদের হামলার পর এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণ। ওই হামলায় নিহত ১৫০ জনের অধিকাংশই ছিল শিশু।
এর আগে আফগান সীমান্তের কাছে বান্নু অঞ্চলে শুক্রবার একটি রাজনৈতিক শোডাউনের কাছে মোটরসাইলের ভেতরে রাখা বোমা বিস্ফোরণে চারজন নিহত ও ৩৯জন আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এই আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক কয়েক বছরে আফগান সীমান্তের বিশাল অঞ্চলে সরকারি ও সামরিক বাহিনীর অভিযানের পর দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নতি হয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলেন, পাকিস্তানিরা যদি উগ্রবাদের মূল কারণ সামাল দিতে না পারেন, তবে দেশটির জঙ্গিরা আরও হামলার সক্ষমতা অর্জন করবে।


