পাক হো নসিবওয়ালি | আদিল মাহমুদ
তাহাজ্জুদ পড়ে, কুরআন তেলাওয়াত—জিকির আজকার করে, আয়েশামনি কপালে তাসবিহ লাগাতো প্রগাঢ় বিশ্বাসে; পাক নসিবে।
সুবহে সাদিকের আলো গায়ে মেখে, জায়নামাজে পা ছড়িয়ে, জানালা দিয়ে তাকিয়ে, আকাশে আতিপাতি করে কি যেন খুঁজতো আয়েশামনি। কি খুঁজতো?—একটি সন্তান!
কবুল বলার একবছর পর, ডানা মেলে আকাশে উড়তেই ঘন কালো মেঘ নেমে আসে আয়েশামনির শাড়ি জুড়ে। বছরের পর বছর কাটে মাতাল স্বামীর চড়-থাপ্পড় গালিগালাজে। সেই সাথে শুনতে হয় বন্ধাত্বের গান—খোট, লাঞ্চনা, অপমান।
আয়েশামনির বাহিরটা রঙিন প্রজাপতির মত উড়ো, স্বাধীন, দ্বিধাহীন, ব্যথাহীন! অথচ ভেতর জাফরুলের মত পানসে, ফ্যাকাশে, রঙহীন, স্বাদহীন।
কলঙ্ক মোচনে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ে, কুরআন তেলাওয়াত—জিকির আজকার করে, আয়েশামনি আরশের দিকে চোখ তুলে বলে, ‘পাক হো নসিবওয়ালি, পাক হো।’


