পানির অভাবে নষ্ট হচ্ছে পাট

পানির অভাবে নষ্ট হচ্ছে পাট

নিজস্ব প্রতিবেদক ● দেশে পাটের বাম্পার ফলন হলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাটের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। গত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানির অভাবে পাট চাষিরা গর্ত করে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে পানি তুলে পাট জাগ (পচন) দিয়েছে। তাতে পাটের গুণগত মান নষ্টের পাশাপাশি চাষিদের অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে। এক বিঘা জমিতে চাষ থেকে শুরু করে পাটের আঁশ ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র দিয়ে পানি উঠিয়ে জাগ দিতে হলে প্রতি বিঘায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সূত্র মতে, দেশে এবার পাটের ফলন ভাল হয়েছে। তবে পাট পচিয়ে আঁশ ছাড়ানোর জন্য কৃষকেরা পর্যাপ্ত পানি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কারণ অনেক জায়গায় বিকল্পব্যবস্থায় পচালেও পাটের মান ভালো হচ্ছে না। পানির অভাবে পাট জাগের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কৃষকরা রিবন রেটিং পদ্ধতিতে আঁশ ছাড়াতে পারে। কিন্তু রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট আগে কাটতে হয় তারপর গোড়া থেঁতলাতে হয়। এই বিষয়টাকে কৃষকরা ঝামেলা মনে করে। যার কারণে কৃষকরা শত ভাগ জাগের উপর নির্ভরশীল। সূত্র জানায়, গতবার দেশে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু পুকুর, ডোবা, নালা ও জলাশয়গুলোতে এখন মাছ চাষ হওয়ায় পানির অভাবে চাষিরা পাট জাগ দিতে পারেনি।

আগের দিনের মতো আর পুকুর, ডোবা, নালা, জলাশয় পড়ে না থাকায় ওসব জায়গায় মাছ চাষ হওয়ায় চাষিদের মধ্যে পাট জাগ দেয়া নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে। কারণ বাধ্য হয়ে তখন পুকুর, ডোবা, নালা লিজ বা ভাড়া নিয়ে পাট জাগ করতে হয়েছে। তাতে চাষির বাড়তি খরচ হচ্ছে। আর কাদামাটি দিয়ে পাট জাগ দেয়ার কারণে পাটের রং কালো যায়। ফলে পাটের কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছে যায় না। তবে কাদামাটি দিয়ে পাট জাগ না দিয়ে পাটের জাগের ওপর ইট অথবা পলিথিনে মাটি ভর্তি করে জড়িয়ে রাখা গেলে ভালো। তাহলে পাটের রং কালচে হয় না। তাছাড়াও মুক্ত জলাশয়েও চাষিরা পাট জাগ দিয়ে এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারে। এ প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেজাউল কাদের জানান, আগে পাট পচানোর জন্য উন্মুক্ত জলাশয় ছিল সেখানে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেত। এখন তা নেই। পানি সঙ্কটের কারণে কৃষকরা গর্ত করে পাট জাগ দিচ্ছে।

ফলে পাটের গুণগত মান নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন রয়েছে। অর্থাৎ পাট জাগ দেয়ার বড় সমস্যা এখন পানি সঙ্কট। মাটিতে গর্ত করে পাট জাগ দিলে পাটের কোয়ালিটি সন্তোষজনক থাকে না। ন্যাচারাল পাটের জন্য মুক্ত পানি দরকার। তবে দেশি পাট থেকে সুতার প্রধান কাচাঁমাল ভিসকস যদি তৈরি করা যায় তাহলে পাটের চাহিদা বহু গুণ বেড়ে যাবে। সেজন্য সরকার পাটকলগুলোর মানন্নোয়ণে চীনের সাথে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন (বিজেএমসি)। ভিসকস দেখতে সুতার মতো কিন্তু তার থেকেও সূক্ষ। ওই ভিসকসের ব্যবহার হয় তুলার বিকল্প হিসাবে সুতা তৈরির কাজে। তবে শুধু গবেষণাগার নয় বিশ্বজুড়ে সুতা তৈরির কারখানাগুলোতে ভিসকসের এখন ব্যবহার হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *