পাবনা সংবাদদাতা : পাবনায় মৌসুমী ফল আমের বাজারে ক্রেতা নাই। ক্রেতা শুন্য আমের বাজারে নাম মাত্র মুল্য ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে নানা জাতের দেশী আম। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ক্রেতার আশায় আম বিক্রেতারা বসে আছে দীর্ঘ সময় ধরে। গরমে পাকা আম আরো পেকে নরম হয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। হাট-বাজারে আমের পাইকের (ব্যাপারী) তো দুরের কথা সাধারন (খুচরা) ক্রেতার দেখাও মেলছে না। সরেজমিন পাবনার আরিফপুর, টেবুনিয়া, চাটমোহর, আতাইকুলা ও দাপুনিয়া হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতার অভাবে বিপুল পরিমান মৌসুমী ফল আম নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। বাজারে দু’একজন ক্রেতা মিললেও তা একেবারেই পানির দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতা। বর্তমান বাজারে ১৫/২০ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি হচ্ছে।
পাবনার টেবুনিয়া ও দাপুনিয়া হাটে প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও বিশাল এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আম সহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের ভ্রাম্যমান বাজার। বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষক ও আম চাষীরা বাগানে উৎপাদিত আম এখানে নিয়ে এসেছেন বিক্রি করার উদ্দেশ্যে। বিক্রেতারা বস্তা, কাঠা, ঝুড়ি সহ বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় পাত্রে আম নিয়ে এসে বিক্রি করার জন্য বসে আছে। বিপুল সংখ্যক বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই কম। দু’একজন দুই চার কেজি আম বিক্রি করলেও সেটা পানির দামেই বলা চলে।
টেবুনিয়া গ্রামের আম বিক্রেতা সিদ্দিক বলেন, সেই সকালের দিকে ১০ কেজি আম নিয়ে বাজারে এসেছি। এখন পর্যন্ত কেউ আমের দাম জিজ্ঞেস করলো না। তীব্র গরমে আম পেকে ক্রমশ নরম হয়ে যাচ্ছে আর কিছু সময়ের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে আম গুলো ফেলে দেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।
চাটমোহরের মূলগ্রাম ইউনিয়নের চকউথুলী গ্রামের আম বিক্রেতা শরীফ হোসেন বলেন, আমার আম বাগানের খুব ভাল মানের ১৫ কেজি আম বিক্রি করার জন্য নিয়ে এসে মহা বিপদে পড়েছি। কোন রকম ক্রেতা নেই। একজন ক্রেতার কাছে দুই কেজি বিক্রি করেছি ২০ টাকা কেজি। যেখানে বাজারে এক লিটার পানির দাম ১৫/২০। তাহলে তো দেখছি পানির চাইতেও আমের দাম কম। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভুতিভুষণ সরকার জানান,এ বছর বিরুপ আবহাওয়ার মধ্যেও জেলা ব্যাপী বিপুল পরিমান আমের ফলন হয়েছে। যা কিনা মানুষের পুষ্টির ও খাদ্যের চাহিদা পুরন হয়ে অনেক আম বাজারে বিক্রি হবে। বাজারে ক্রেতা না থাকার বিষয়ে তিনি জানান, দেশের ফল মুলের বাজারে মানুষের মাঝে এক ধরনের আতংক কাজ করে খাদ্যে কার্বাইড কিংবা ফরমালিনের মিশ্রন নিয়ে। এছাড়া রমজান মাসের কারনেও মানুষের চাহিদা কম হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে ৮/১০ দিনের মধ্যেই পূর্বের ন্যায় আমের চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি পাবে।
________
patheo24/105


