পেঁয়াজে আগুন, দাম বেড়ে দ্বিগুন
পাথেয় টোয়েন্টিফের ডটকম :: পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে থাকলেও একরাতেই একলাফে পেঁয়াজ দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। পেঁয়াজের পাশাপাশি দাম বেড়েছে আদা, রসুন ও আলুর। করোনা ভাইরাস আতঙ্ককে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে পেঁয়াজ, আলু ও রসুন কিনে মজুদ করছেন। ফলে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
রামপুরা বাজারে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা। একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে খিলগাঁও ও মালিবাগের বিভিন্ন খুচরা বাজারে। যা গত বুধবারও ৪০-৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়।
এসব বাজারে দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়, যা দুইদিন আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকা, যা বুধবার ছিল ১৪০-১৫০ টাকা। ১০০-১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আদার দাম বেড়ে হয়েছে ১৭০-১৮০ টাকা। আর ১৮-২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গোল আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৮ টাকা।
এসব পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে গত বুধবার থেকে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, আলুর চাহিদা বেড়ে গেছে। চাহিদা বাড়ায় আড়ৎ থেকে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আড়তে দাম বাড়ার কারণে আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মানুষ যদি কম পরিমাণে এসব পণ্য ক্রয় করে তাহলে আমাদের ধারণা কিছুদিনের মধ্যেই আবার দাম কমে যাবে।
কারওয়ান বাজার থেকে বাজার করা আতর আলী বলেন, আমরা হুজুগে বাঙালি। কখন কী করি তার কোনো ঠিক নেই। আতঙ্কে এখন সবাই পেঁয়াজ, রসুন, আদা, আলু মজুদ করতে শুরু করেছে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যাদের বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকার কথা তাদের কেউ দাম নিয়ন্ত্রণের কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
মালিবাগ বাজার থেকে বাজার করা রহিমুদ্দীন বলেন, এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। সেই হিসেবে দাম কমার কথা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। করোনাভাইরাস আতঙ্কে অনেকেই বেশি করে পেঁয়াজ কিনে রাখায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বশীলরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বাজারে সব পণ্যের দাম অস্থির হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা অনেক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।


