নিজস্ব প্রতিবেদক ● প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। গত ২ জুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর মঙ্গলবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া আসে। বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মগুলোর জন্য সবুজ ও নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করার বৈশ্বিক যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের মত নেতৃস্থানীয় অংশীদার হারানো দুর্ভাগ্যজনক। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যে ২০১৫ সালে প্যারিসে ওই জলবায়ু চুক্তি হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেঁধে রাখার উদ্যোগে নেওয়া হবে, যাতে তা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী না হয়েও বাংলাদেশ শুরুর দিকের কয়েকটি দেশের সঙ্গেই ওই চুক্তিতে অনুসমর্থন দেয়। ২০১৫ সালে যখন প্যারিস চুক্তি হয়, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ছিলেন সামনের কাতারে। আর গত বছর নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই প্যারিস চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিলেন ট্রাম্প।
তার ভাষ্য, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও কয়লা শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ক্ষমতায় আসার পরপরই চুক্তি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘোষণা আসে গত ২ জুন। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যৎকে প্রত্যাখ্যান করল। যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশ প্যারিস চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকবে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উৎসগুলোর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর হুমকিগুলো চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।


