প্রকল্প ব্যয়ে হতে হবে সাশ্রয়ী; প্রধানমন্ত্রী

প্রকল্প ব্যয়ে হতে হবে সাশ্রয়ী; প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশটা খুব স্পষ্ট। সেটা হচ্ছে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, ব্যয়ের দিক থেকে। এ ছাড়া ব্যয়গুলো কোন কোন খাতে হচ্ছে, সেগুলো যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, যে যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে, সেগুলো আসলে কতটা সামগ্রিকভাবে আমাদের জনগণের জীবনে যে উন্নতি চিন্তা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারকে তার যে নির্বাচনী ইশতেহার পরিকল্পনা সবগুলোর সাথে সামঞ্জস্য কি না? এই সব দিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তালিকায় (৩), (৪) ও (৫) ক্রমিকে তিনটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি হলেও কেন পাঁচবার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলো তার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প অনুমোদনের সময়ে এসব নির্দেশনা দেন বলে মিটিং শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। সভায় অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন আট হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বিদেশী ঋণ পাঁচ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের বলেন, একনেক সভা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ১৭টি প্রকল্প উত্থাপিত হয়েছে। তার মধ্যে ১৫টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বেশির ভাগ প্রকল্পই পাস হয়েছে। তবে কয়েকটি প্রকল্পের শর্তসাপেক্ষ বিভিন্ন বিষয় আছে। প্রায় প্রকল্পের ব্যাপারে কমেন্টের বিষয় আছে। তিনি বলেন, একটা সিদ্ধান্ত এর আগে নেয়া হয়েছিল যে যেগুলো চলমান প্রকল্প এবং যেসব প্রকল্প প্রস্তাবিত হয়েছে বিগত সময়ে, সেসব প্রকল্পকে আমরা রিভিউ করব। অনেকগুলো প্রকল্প এমন অবস্থায় চলে এসেছে যে সেগুলোর হয়তো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার উদ্যোক্তাদের ভোগান্তি নিরসনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো, ‘শহুরে জনসংখ্যার জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ প্রকল্প, ‘কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প (১ম সংশোধন) প্রকল্প। ‘পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প, অভিযোজন ও ঝুঁকি হ্রাসের জন্য স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো (নদী) প্রকল্প (১ম সংশোধনী)’ প্রকল্প, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিবাস নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ‘অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প, ঢাকা শহরে ‘জরুরি পানি সরবরাহ’ প্রকল্প। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্প, সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প-২য় পর্যায় প্রকল্প, “বৈরাগীরপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক (জেড-৮৯১০) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প, “বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের (এন-৮০৯) বরিশাল (চর কাউয়া) হতে ভোলা (ইলিশা ফেরী ঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প। এ ছাড়া বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষ্মী পাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর উপর গোমা সেতু নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। এদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)” প্রকল্প, ‘মধুখালী হতে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ৩৩টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভায় অবহিত করা হয়।

Related Articles