পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাশিয়া সফরের সময় সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনা এ খবর দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত এবং তা বন্ধে চলমান আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হবে এই বৈঠকে।
এর আগে রোববার রাতে পাকিস্তান থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বার্তা আদানপ্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
টেলিগ্রামে বলা হয়েছে, ‘এই সফরের সময় রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে ইরান-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।’
চলতি সপ্তাহে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুইবার পাকিস্তান সফর করেছেন আব্বাস আরাঘচি। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছান তিনি। পাকিস্তানের মাধ্যমে আগে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, তার ওপর তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাব সঙ্গে নিয়ে আসেন তিনি।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, ইরানের প্রতিনিধিদলের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর তেহরানের চূড়ান্ত অবস্থান তুলে ধরা।
আরাঘচির এই সফরগুলোর মাধ্যমে ইরান মূলত এই অঞ্চলে তাদের অবস্থান সুসংহত করা এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে।
এই সফরের একটি অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি। মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ ইরান ক্রমাগত প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তেহরান বার্তা দিতে চাইছে যে, এই এলাকায় তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে এবং প্রণালিটি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও তার সাম্প্রতিক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি নিরাপদে পরিচালনার পথ খুঁজে পেতে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
রাশিয়া গত কয়েক দশক ধরে ইরানের কৌশলগত মিত্র হিসেবে কাজ করছে এবং ইরান এখন তাদের কাছ থেকে জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে।


