‘প্রকাশ্য আমলের মাধ্যমে কাউকে নিশ্চিতভাবে জান্নাতি বলা যায় না’

‘প্রকাশ্য আমলের মাধ্যমে কাউকে নিশ্চিতভাবে জান্নাতি বলা যায় না’

  • লজ্জা মানুষকে অনেক গুনাহ থেকে বাঁচাতে পারে।

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রকাশ্য আমলের মাধ্যমেই কাউকে নিশ্চিতভাবে জান্নাতি বলা যায় না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) ইকরা বাংলাদেশ ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

মানুষের প্রতিটা সময়ের নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর হাতে উল্লেখ করে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, মানুষের প্রতিটা সময়ের নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর হাতে। মানুষ অনেক কিছু করার ইচ্ছা করে, কিন্তু তার ইচ্ছা পূরণ হবার আগেই জীবনের শেষ সময় ঘনিয়ে আসে। ফলে তার ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে যায়। যদি মানুষের হাতে তার সময়ের নিয়ন্ত্রণ থাকতো, তাহলে অনেক কাজ করতে পারতো।

তিনি বলেন, যেহেতু সময়ের নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে নেই, তাই প্রতিটা মুহুর্তে একজন মুসলমান ভয়ে ভয়ে থাকবে, আল্লাহ যেন তাকে পথভ্রষ্ট না করেন, তার চেষ্টাকে যেন বিফল না করেন। কারণ হেদায়েতের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে। নবীজিকেও আল্লাহ তাআলা হেদায়েতের ক্ষমতা দেন নাই। আল্লাহ তাআলা যখন যাকে ইচ্চা হেদায়েত দিতে পারেন, আবার ইচ্ছা করলে পথভ্রষ্টও করতে পারেন।

শুধু প্রকাশ্য আমলের মাধ্যমেই কাউকে জান্নাতি বলা যায় না জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, কারও বাহ্যিক আমলের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে জান্নাতি-জাহান্নামি বলা যায় না। এজন্য জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। কারণ হেদায়েতের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। জীবনের শেষ মুহুর্তে এসে কোনও কুফুরি কাজ করলে ঈমান চলে যেতে পারে, জান্নাতি থেকে জাহান্নামিও হয়ে যেতে পারে। আবার সারা জীবন গুনাহের কাজ করেও জীবনের শেষ মুহুর্তে একটি ভালো কাজের মাধ্যমে জান্নাতি হয়ে যেতে পারে। তাই একজন মুমিন সর্বদা ভয়ে ভয়ে থাকবে, তার ঈমানের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকবে।

‘লজ্জা ঈমানের অঙ্গ’ এ কথা জানিয়ে শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলনে, লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। লজ্জা না থাকলে মানুষ যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। লজ্জা মানুষকে অনেক গুনাহ থেকে বাঁচাতে পারে। কিন্তু আজকাল আমাদের থেকে লজ্জা উঠে গেছে। কে কতো বেপর্দায় চলতে পারে তার প্রতিযোগীতা চলছে। কে কতো কাপড় খুলতে পারে তার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। অথচ আল্লাহ তাআলা লজ্জার মধ্যেই কল্যাণ রেখেছেন। এ কথাটা যতো দ্রুত বুঝতে পারবো, ততোই আমাদের জন্য মঙ্গল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *