প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় লন্ডন হামলা

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় লন্ডন হামলা

পাথেয় ডেস্ক ● ফ্যাশনেবল এলাকা বলে খ্যাত লন্ডন ব্রিজ এবং বারা মার্কেট এলাকার সবগুলো রাস্তা ভর্তি বার, পাব আর রেস্টুরেন্টে। ছুটির সন্ধ্যাগুলোতে প্রায় সবসময়ই জনাকীর্ণ, কোলাহলপূর্ণ থাকে এই এলাকাটি। শনিবার সন্ধ্যাটিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু উচ্ছ্বাস-আনন্দে ভরপুর সন্ধ্যাটার শেষটা ছিল বিষাদে গাঁথা। পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে লন্ডন ব্রিজে জনতার ভিড়ের মধ্যে একটি ভ্যান চালিয়ে দেয় তিন হামলাকারী। এরপর তারা সাদা রঙের ওই ভ্যান থেকে ছুরি হাতে বেরিয়ে আসে এবং কাছের বারা মার্কেট এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালায়। ম্যানচেস্টারে হামলার রেশ না কাটতেই যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগের এ ঘটনায় শেষ খবর পর্যন্ত অন্তত সাতজন নিহতের কথা জানিয়েছে পুলিশ। আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আরও ৩০ জনকে। এটা ছিল ভয়ানক, বলেন ৫৩ বছর বয়সী প্রত্যক্ষদর্শী মার্ক রবার্টস। রবার্টসের মত আরও অনেকে এদিন সাক্ষী ছিলেন লন্ডন ব্রিজ ও বারা মার্কেটে এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার। হামলার পর পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা। রয়টার্স হামলার পর পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা। রয়টার্স প্রথমে সাদা একটি ভ্যান ব্রিজের ফুটপাতে হাঁটতে থাকা মানুষের ওপর তুলে দিয়ে হামলাটি শুরু করা হয়। মনে হচ্ছিল চালক নির্দিষ্ট করে একটি দলকে লক্ষ্য করেছিল। আমি স্থানুর মত দাঁড়িয়ে গিয়েছিলাম, কারণ বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিত, বলেন রবার্টস। হামলাকারীদের ভ্যানটি ফুটপাতে তুলে দেওয়ার পর অন্তত ছয়জনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন রবার্টস। হামলাকারীরা এরপর ছুরি হাতে বারা মার্কেট এলাকায় নারী-পুরুষ সবার উপর নির্বিচারে হামলা চালায়। হামলা শুরুর ৮ মিনিটের মাথায় বারা মার্কেট এলাকায় তিন হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বলে ব্রিটিশ পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের প্রধান মার্ক রাউলি জানিয়েছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, হামলাকারীদের শরীরে ক্যানিস্তারের মত কিছু বাধা দেখে প্রথমে সুইসাইডাল ভেস্ট বলে ভাবা হলেও পরে দেখা যায় সেগুলো অন্য জিনিস, কোনো বিস্ফোরক নয়। এভাবে দুহাত তুলে পুলিশ কর্ডনের মাঝ দিয়ে হেঁটে ঘটনাস্থল ছাড়নে অনেক আতঙ্কিত মানুষ। রয়টার্স এভাবে দুহাত তুলে পুলিশ কর্ডনের মাঝ দিয়ে হেঁটে ঘটনাস্থল ছাড়নে অনেক আতঙ্কিত মানুষ। রয়টার্স ঘটনার সময় লন্ডন ব্রিজে ছিলেন ৫৩ বছর বয়সী ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট মার্ক রবার্টস। রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছেন, ভিড় লক্ষ্য করেই ওই ভ্যানটি চালানো হয়েছিল। ভ্যানটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ মাইল ছিল বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিবিসির সাংবাদিক হলি জোন্স জানিয়েছেন। চালক আমার সামনে দিয়েই ডান দিকে মোড় নেয় এবং এরপর ৫-৬ জনকে আঘাত করে। বিবিসি জানায়, ব্রিটিশ আর্মড পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে স্থানীয় সময় রাত ১০ টা ৮ মিনিটে লন্ডন ব্রিজের কাছে সাদা একটি ভ্যানের আঘাতে আহত কয়েকজন মানুষের কথা জানিয়ে সেখানে যেতে অনুরোধ করা হয়। কিছুসময় পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাউন্টার টেররিজম বিশেষজ্ঞ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তার কিছুক্ষণ পর ব্রিজের দক্ষিণ দিকের বোরো মার্কেট এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়।

এভাবে দুহাত তুলে পুলিশ কর্ডনের মাঝ দিয়ে হেঁটে ঘটনাস্থল ছাড়নে অনেক আতঙ্কিত মানুষ। রয়টার্স এভাবে দুহাত তুলে পুলিশ কর্ডনের মাঝ দিয়ে হেঁটে ঘটনাস্থল ছাড়নে অনেক আতঙ্কিত মানুষ। রয়টার্স গেরার্ড নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেন, ঘটনার পর আমি এক বৃদ্ধকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছি, যিনি বলছিলেন তাকে ছুরি মারা হয়েছে। গেরার্ড তিন মুসলিম হামলাকারীকে এক বালিকাকে একের পর এক ছুরি মারতে দেখার কথাও জানান। তারা ওই মেয়ের ওপর হামলা চালায় এবং আরেক ব্যক্তিকে ছুরি মারে। তারা রাস্তার উপর দৌড়ে সরাইখানার এক বাউন্সারকে ছুরি মারে। আমি তাদের দিকে বোতল, বিয়ারের গ্লাস, চেয়ার, টুল সব ছুঁড়ে মারছিলাম, তবুও আমি ছিলাম অসহায়। তারা দৌঁড়ে আসছিল আর বলছিল, এগুলো আল্লাহর জন্য। সবকিছুর পর ওই বালিকাকে মারা ছুরির দৃশ্যই গেরার্ডের চোখে ভাসছিল। তারা মেয়েটিকে ১০ কি ১৫ বার ছুরি মেরেছিল। মেয়েটি সেসময় বারবার সাহায্যের আকুতি জানাচ্ছিল। গেরার্ডের দাবি, তার ছুঁড়ে মারা জিনিস এক হামলাকারীর পেছনদিকে আঘাত করলে হামলাকারী তাকে ধাওয়া দেয়, তবে শেষপর্যন্ত তিনি অক্ষত অবস্থায় পালাতে সক্ষম হন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *