প্রসঙ্গ জঙ্গিবাদ, জনসচেতনতার বিকল্প নেই

প্রসঙ্গ জঙ্গিবাদ, জনসচেতনতার বিকল্প নেই

প্রসঙ্গ জঙ্গিবাদ, জনসচেতনতার বিকল্প নেই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জঙ্গিবাদ কোনো গোত্রীয় সমস্যা। এটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বাংলাদেশও এ বিপদ থেকে মুক্ত নয়। একে মোকাবেলা করার প্রধান শর্ত হলো সচেতনতা। আজকের একেবারে শিশু শিক্ষার্থীকেও এ জঙ্গিবাদ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। সতর্ক হওয়ার চেয়ে বড় অস্ত্র আর কিছু নেই। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী দৃষ্টিগ্রাহ্য সাফল্য অর্জন করলেও অসহিষ্ণুতার নোংরা ভূতের ছোবল থেকে দেশ ও জাতি শতভাগ নিরাপদ এমন দাবির কোনো সুযোগ নেই। তিন বছর আগে গুলশানের কূটনীতিক পাড়ার হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ঈদের প্রাক্কালে।

দেশের মানুষ যখন সিয়াম সাধনার শেষ পর্যায়ে ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা এবং সেখানে অবরুদ্ধ বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি নাগরিকের হত্যাকা- পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করে দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী অভিযান চালিয়ে জঙ্গি হামলায় অংশগ্রহণকারী বিপথগামীদের স্তব্ধ করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনার পর গত তিন বছরে র‌্যাব-পুলিশের জঙ্গিবিরোধী ২৬০টি অভিযানে নিহত হয় ৮৮ জন। গ্রেফতার হয়েছে এক হাজার ২২০ জন। একের পর এক সফল অভিযানের পরও জঙ্গিবাদের ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি দেশ।

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নতুন ভাড়াটে জঙ্গিরা। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসপন্থি জঙ্গিরা নানাভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের অনলাইনকেন্দ্রিক তৎপরতা গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গিদের কাছ থেকে চোরাগোপ্তা হামলা ও লোন উলফ হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। মাঝে-মধ্যে যুব বয়সের কারও কারোর নিখোঁজের সংবাদ উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। হলি আর্টিজানের ভয়ঙ্কর হামলার তিন বছরের মাথায় নতুন মাত্রায় হুমকি হয়ে উঠেছে আইএসপন্থি জঙ্গিরা।

এ দেশের আইএস মতাদর্শীর জঙ্গিগোষ্ঠী, যাদের পুলিশ ‘নব্য জেএমবি’ বলে থাকে, তারা প্রায় তিন বছর পর ঢাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে দুটি হামলার মধ্য দিয়ে নিজেদের জানান দিয়েছে। এবারের ঈদুল ফিতরের সময় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে বড় ধরনের হামলা হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। প্রধানমন্ত্রীও গত ৯ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে ঈদুল ফিতরের জামাতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা আছে বলে জানিয়েছেন। বলেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় তা এড়ানো গেছে।

জঙ্গিবাদের হুমকি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সতর্ক ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় তাদের একক ভূমিকাই যথেষ্ট নয়। দেশ যেমন সবার, জঙ্গিবাদকে ঠেকানোর জন্য দেশের প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে। দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। এ ছাড়া জঙ্গিবাদমুক্ত দেশ গঠন সম্ভব নয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *