প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি

প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি

প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি  (২য় পর্ব)

মো: রুবেল হোসাইন : এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে চলছে। কাতারের সাথে এলএনজি আমদানির যে চুক্তি  করা হয় সেই চুক্তি অনুযায়ী কাতার থেকে এলএনজিবাহী এক্সিলেন্স নামক জাহাজটি কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৌঁছায় এপ্রিলে। আর এ চালানের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো এলএনজি  যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। ২৭৭ মিটার দীর্ঘ ও ৪৪ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট জাহাজটি বাংলাদেশের জন্য বহন করে নিয়ে আসে ১ লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস।

জাহাজটি উপকূল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে। ১৫ বছর পর্যন্ত বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি জাহাজ ভাড়া পাবে তারপর এটি বাংলাদেশের নিজস্ব মালিকানায় চলে আসবে। গ্যাস সঞ্চালনের জন্য এরই মধ্যে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৯১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাইপলাইনের কমিশনিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন চলছে সীতাকুণ্ড‍ু পর্যন্ত আরো ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ।

এলএনজি আমদানির বিষয়টি অত্যন্ত প্রতিক্ষিত এবং বহুল আলোচিত । আমাদের দেশে যে গ্যাস সম্পদ আছে তা অফুরন্ত নয় । এ সম্পদ শেষ হওয়ার আগেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন কারণ বিদ্যুৎখাতসহ ব্যবসাবাণিজ্য ত্বরান্বিত রাখা জরুরি। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইতোমধ্যে ২৬৫টি শিল্প কারখানাকে এলএনজি সরবরাহের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে এবং আরো ৩৫৭টি শিল্পকারখানার আবেদন পেট্রো-বাংলার কাছে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সক্ষমতা স্পষ্ট প্রতীয়মান। পেট্রোবাংলার মতে দেশে দৈনিক ৩৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ২৭৫ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ছিল। এ ঘাটতি পূরণের জন্য দ্রুতই সদ্য এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের মহেশখালিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সূত্রমতে, ভবিষ্যত জ্বালানি নিরাপত্তায় ২০১৫ সালে গঠন করা হয় জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল। এলএনজি নিঃসন্দেহে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি দৃষ্টান্ত। বর্তমান সরকারের প্রতিটি ঘরে ও কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিতকরণে এটি বড়ো ভূমিকা রাখবে। এর ব্যবহারে দেশের গ্যাস সম্পদের ওপর চাপ কমবে। জনসাধারণ গ্যাস ব্যবহারে সচেতন হবে। একইসাথে দেশের অর্থনীতিতে এলএনজির ব্যবহার বড়ো ভূমিকা রাখবে। এ কথা স্পষ্ট যে, ভবিষ্যৎ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে আমাদের দেশে এলএনজি আমদানি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও যথার্থ ব্যবহারে আমাদের সকেলকে সচেতন হতে হবে।

২৫.১০.২০১৮

লেখক : কলামিস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *