নিজস্ব প্রতিবেদক ● প্রি-পেইড মিটারিং সিস্টেম চালুর বিষয়ে ধীরগতি নিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের (পিডিবি) ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত বিদ্যুৎ ভবনে চারটি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশনের উদ্বোধন করতে এসে পিডিবি কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ার পর নসরুল হামিদ বললেন, ইচ্ছে করে ক্যামেরার সামনে বললাম, যাতে আপনারা লজ্জা পান। প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ পিডিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, তিনবছরের মধ্যে সবখানে প্রি-পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেম চালু করার জন্য বলা হয়েছিল। গত তিনবছর ধরে আপনাদের তা বলে আসছি। কিন্তু আপনারা করেননি। তিন বছরে করতে পেরেছেন মাত্র এক লাখ।
অথচ গ্রাহক আছে সাত লাখ। তার মানে আরও ছয় লাখ গ্রাহকের জন্য ছয় বছর লাগবে। ততদিনে আবার আরও তিন লাখ গ্রাহক বাড়বে। তিনি প্রি-পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেম চালু না হওয়ার বিষয়ে পিডিবির কর্মকর্তাদের অনীহা আর অনিচ্ছাকে দায়ী করে বলেন, আপনারা লাগাতে চান না। কারণ এতে সিস্টেম লস কমে যাবে। আপনাদের আয়ও কমে যাবে। আমি আর এটা দেখতে চাই না। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে সাত লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেম দেখতে চাই। তিনি বলেন, আমি বারবার বলে আসছি এই বিষয়ে। এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। কিন্তু আপনারা গত তিনবছর ধরে আমাকে হারিকেন দেখিয়ে আসছেন। এসব আর আমি দেখবো না। আগামি মাসেই কনসালটেন্ট নিয়োগ দেন। কনসালটেন্ট তিন মাসের মধ্যে ডিজাইন করে দেবেন। চট্টগ্রামে সাত লাখ গ্রাহক আছেন। আমি আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই সাত লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেম দেখতে চাই।
প্রি-পেমেন্ট মিটারিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কার্ড সিস্টেমে বিদ্যুৎ বিক্রির কথা বলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৪০ হাজার গ্রাহককে সার্ভ করার জন্য এখন ১৪ জন লোক লাগে। এর মধ্যে কেউ আসবে, কেউ যাবে টয়লেটে, কেউ ঘুরবে-স্বাভাবিকভাবে যা হয় আর কি। তাই আমার কথা প্রি-পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেমে বিদ্যুৎ বিক্রির বিষয়টি থার্ড পার্টির কাছে যাক। কিন্তু তা আপনারা করবেন না। দেশ হচ্ছে ডিজিটাল, আপনারা পড়ে আছেন ট্র্যাডিশনালে। আপনারা একের পর এক লোক নেবেন। এই লোক নিয়োগ নিয়েও আবার চলে দুর্নীতি। সারাদেশেই বিদ্যুতের খুব সংকট যাচ্ছে স্বীকার করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, মেঘনাঘাটে বৃষ্টির কারণে টাওয়ার ভেঙে পড়ায় ১৫০০ থেকে ১৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাচ্ছিলাম আমরা। এ ছাড়া মেকানিক্যাল কারণে বেশকিছু পাওয়ার পয়েন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে পুরো দেশজুড়ে বিদ্যুতের খুব সংকট যাচ্ছে। তবে শনিবার থেকে পরিস্থিতি ভালো হতে শুরু করবে। আশা করছি রমজানের মধ্যে এই সমস্যা আমরা কাটিয়ে উঠবো। শুক্রবার সকালে নগরীর আগ্রাবাদে অবস্থিত বিদ্যুৎ ভবনে চারটি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশনের উদ্বোধন করতে এসে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। শুধু প্রতিমন্ত্রী নন, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের মুখেও ছিল হতাশার সুর। ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, কিছুদিন আগে আমরা বিদ্যুতের বিষয়ে বুক ফুলিয়ে বলতাম। কিন্তু আজ এখানে এসে তা বলতে পারছি না। এর দায়ভার আমাদেরই নিতে হবে। কারণ সরকার প্রধান আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু আমরা জনগণকে পুরোপুরি স্বস্তি দিতে পারছি না।
আমরা সচেতন হলে, কাজের গতি বেগবান করতে পারলে এই সমস্যা থাকতো না। তিনি বলেন, তিন বছরের মধ্যে আমরা প্রি-পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেম চালু করতে পারিনি। দেশে সবমিলিয়ে দুই কোটি ৪৬ লাখ গ্রাহক আছেন। কিন্তু আমরা দিতে পারছি মাত্র ১০ লাখ গ্রাহককে। আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ সহ পিডিবি চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে চারটি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশনের উদ্বোধন করেন, পরে তিনি বিবিবি-আগ্রাবাদের প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশন ও বিবিবি-পাহাড়তলী প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশনের উদ্বোধন করেন।


