ফণীর ছোবল : সচেতনতায় উপকৃত দেশের মানুষ

ফণীর ছোবল : সচেতনতায় উপকৃত দেশের মানুষ

মাসউদুল কাদির : প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচানোর একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ তাআলা। পৃথিবীর তাবৎ মুসলমানগণ এটাই বিশ্বাস করেন। ঘূর্ণিঝড় ফণী তুমুল শক্তিশালী হয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। মনে হচ্ছিল, আঘাত হানবে ভয়ঙ্কররূপেই। কিন্তু সেটা খুব কমই ক্ষতির তালিকা ধরিয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে ফণী। ধন্যবাদ জানাতে হয় দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের মাধ্যমে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, মসজিদে মসজিদে ঘূর্ণিঝড় ফণীর কবল থেকে দেশবাসী যেন রক্ষা পায় সে জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করুন। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধায় ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানার কথা রয়েছে, এই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে আল্লাহ যেন দেশবাসীকে রক্ষা করেন, সেজন্য বাদজুমা সারাদেশের মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী নিজেই যখন এমন ঘোষণা দিলেন, দেশের সব মসজিদেও আলেমদের তত্ত্বাধানে আয়োজন হলো দুআ মাহফিলের। অনেক শীর্ষ আলেম মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়েও ক্ষমা প্রার্থনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। তা-বের পর তা-ব চালালেও সিডরের মতো কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেই জানিয়েছে গণমাধ্যম। দেশের মানুষ বেঁচেছে এটাই সবচেয়ে বড় খুশির খবর। যদিও কিছু তো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সচেতনতা বৃদ্ধির শক্তি আমাদের বেড়েছে- সে সক্ষমতার প্রমাণ এবার দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। প্রকৃত স্যালুট তো তারাই পাওয়ার অধিকার রাখেন।

আশার কথা হলো, বাংলাদেশ আর শঙ্কায় নেই। ফণী দুর্বল হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামসুদ্দিন শনিবার বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ কেটে গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি এখন স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সেজন্য ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজন বিকাল ৪টা থেকে বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, ১৯টি জেলার ৪ হাজার ৭১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ফসল এবং গবাদিপশুর তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। বরগুনায় ২ জন, ভোলায় একজন ও নোয়াখালীতে একজন মারা গেছেন। এদের মধ্যে দুজন ঘরচাপা পড়ে এবং দুইজন গাছচাপা পড়ে মারা গেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে না যাওয়ার কারণেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

অসচেতনতা দূর করতে হবে। যেটুকু দুর্বলতা এখনও রয়ে গেছে সেটা চিহ্নিত করে তদনুযায়ী অগ্রসর হতে হবে। দেশের মানুষকে যে কোনো দুর্যোগে এরকম সমর্থন করতে পারলে দেশই এগিয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আগামী দিনগুলোও আরও সুন্দর হোক, আরও সমৃদ্ধ হোক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *