ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের হতাশা

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের হতাশা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের কার্যকলাপের বিষয়ে ‘গভীর উদ্বেগ ও হতাশা’ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এই হতাশা প্রকাশ করা হয়।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেনশিয়াল এই বিবৃতিটি যুক্তরাষ্ট্রসহ কাউন্সিলের ১৫ সদস্যের সবাই অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

এদিকে ইউএনএসসির ওই বিবৃতিতে ‘সন্ত্রাস পরিত্যাগ এবং মোকাবিলা করার জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতা’ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কাউন্সিল বলেছে, ‘ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ফলে ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে নিরাপত্তা পরিষদ।’

আল জাজিরা বলছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরে হাজার হাজার বসতি স্থাপনের অনুমোদন এবং বেআইনিভাবে নির্মিত সেটেলমেন্ট ফাঁড়িগুলোকে বৈধ করার জন্য ইসরায়েলি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের প্রতীকী এই পদক্ষেপটি সামনে এলো।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা খুবই খুশি যে, (ইসরায়েলের) অবৈধ, একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ একটি বার্তা সামনে এসেছে।’

এর আগে গত সপ্তাহে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের প্রতিশ্রুতিসহ মার্কিন সরকারের চাপের মধ্যে ভোটাভুটি বাদ দিতে সম্মত হয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তির অংশ হিসাবে ইসরায়েল সাময়িকভাবে নতুন বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ধ্বংসের কর্মকাণ্ড স্থগিত করবে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স সোমবার বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করে। ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলকে ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সমস্ত বসতি স্থাপনের কার্যক্রম অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার’ দাবি করা হয়েছিল। তবে পরে সেটি বাদ দেওয়ার কথা নিরাপত্তা পরিষদকে জানায় ইউএই ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজাসহ পশ্চিম তীর দখল করে নেয় ইসরায়েল। তখন থেকে ইহুদি এই দেশটি দখলকৃত ভূখণ্ডে কয়েক হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপন করেছে। যদিও এই ভূখণ্ডকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের অংশ হিসাবে চায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *