পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ফিলিস্তিনি সামি আবু দিয়াক (৩৬) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইসরাইলের কারাগারে বিনা চিকিৎসায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। চিকিৎসার আবেদনের পরও কারাগার থেকে সামি আবু দিয়াকের মুক্তি মেলেনি।
ফিলিস্তিনি এ কারাবন্দির চিকিৎসা দিতেও অবহেলা করে ইয়াহুদিবাদী কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের অবহেলাকেই এ বন্দির মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সামি আবু দিয়াকের মৃত্যুকে ‘ক্লিনিক্যাল কিলিং’ বলে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনের বন্দিবিষয়ক কমিশন এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, ৩৬ বছর বয়সী সামি আবু দিয়াক ইয়াহুদিবাদী ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তার মৃত্যুতে কারাগারে বিক্ষোভ হতে পারে, এমন আশংকায় ইসরাইল কারা কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় সতর্কতাও জারি করেছে।
ক্যান্সারে আক্রান্ত সামি আবু দিয়াককে হত্যার লক্ষ্যেই তিন বার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। ইসরাইলের কারাগারে মৃত্যুবরণকারী সামি আবু দিয়াক দখলদার ইয়াহুদি কারা কর্তৃপক্ষের চিকিৎসা অবহেলার নতুন শিকার বলে উল্লেখ করেছেন ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও)।
মৃত্যুর আগের সামি আবু দিয়াকের পরিবার ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার দাবিতে ইসরাইল কর্তৃপক্ষের কাছে তার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিলো। কিন্তু দখলদার ইসরাইলি সরকার তাদের সে আবেদনে সাড়া দেয়নি। মুক্তি মেলেনি বন্দি সামি আবু দিয়াকের। পরিণতিতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কারাগারেই জীবন দিতে হলো তাকে।
২০০২ সালে পশ্চিম তীর থেকে সামি আবু দিয়াককে দখলদার ইসরাইলের ইয়াহুদিবাদী সেনারা আটক করে। আটকে পর প্রহসনমূলক বিচারের নামে তিন বার যাবজ্জীবন সাজা দেয়। যাবজ্জীবন সাজা ছাড়াও তাকে অতিরক্তি ৩০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে ইসরাইল।
উল্লেখ্য যে, ফিলিস্তিনের ওয়াফা বার্তা সংস্থার তথ্য মতে, ‘১৯৬৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইয়াহুদিবাদী দখলদার ইসরাইলের কারাগারে ২২২ ফিলিস্তিনি নাগরিক শুধু চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুবরণ করে।


