ফয়জুল্লাহ আমান-এর দুটি কবিতা

ফয়জুল্লাহ আমান-এর দুটি কবিতা

মায়াবী সন্ধ্যার কথা

সন্ধেগুলো মায়াবী গোধূলীর ধুলোয় ছেয়ে যায়
ঘরে ফেরা দিন শেষে পাখির মত গাম্ভীর্য তার মুখের ভাঁজে
পুবাকাশে তাকিয়ে থাকি চতুর্দশীর অপেক্ষায় প্রতিদিন চন্দ্রোদয়কালে।

এখন সেই সূর্যাস্ত লগন
মলীন মুখে আমি সান্ধ্য বাংলাদেশকে দেখি স্ফূর্তিতে ভরা
বিকেলভর খেলায়মগ্ন শিশুর ধুলো মাখা হাসি মুখ যেন।

লাল রঙ ছিটানো আকাশে দুঃখময় বহু স্মৃতি প্রতিদিন আমাকে অতীতে নিয়ে যায়;
শান্ত মফস্বলের দুরন্তপনাগুলো ভেসে ওঠে চোখের সামনে,
আমার ভেতরে সন্ধার আঁধার অন্য রকম আলোর বার্তা নিয়ে আসে।

প্রতিদিন মাগরিবের আযান প্রয়াত মাতামহের মত আমাকে অন্তর দিয়ে ডাকে একান্ত আশ্রয়ে;
একেকটি ভোর আমার দরজায় নতুন জীবন
সন্ধ্যাগুলো দুঃখ ভরা জীবনের পূর্ণতা।
রাতহীন দিনগুলো সত্যিই কেমন দুঃসহ!

দ্যাখো মনের রঙগুলো কিভাবে চন্দ্রালোকে মিশেছে?
দিগন্তে তাকিয়ে চলো আজকের আকাশ স্পর্শ করি পরম মমতায়,
আকাশের পরে আকাশ রচনা করি হৃদয়ের প্রশস্ত প্রান্তরে,
পবিত্র রাতের নির্জনতা বিলিয়ে দিই জনে জনে প্রাণে প্রাণে।

রূপালি আলোর প্রতিবিম্ব

ঝর্ণার কুলকুল শব্দের মত শান্তি নেমে আসে অন্তরের সবুজ উদ্যানে,
চারদিকের কোলাহলেও আমি স্থির প্রশান্ত পাহাড়ের দার্ঢ্য কল্পনা করি।
আমার আকাশে সারাক্ষণ দেখি আলোর ঝলক;
আমি আবে হায়াতের সমুদ্র মন্থন করে খুঁজি এক ফোঁটা অশ্রুজল।

চোখের তারায় কী এক প্রশান্তি আঁকা!
হাওয়ায় ওড়ে কাঁধ ছোঁয়া চুল।
দখিনা বাতাসে পাই সাগরের লোনা গন্ধ,
চেতনার চিল উড়ে যায় আকাশ পাড়ায় ।

আগাছার মত প্রবঞ্চক শ্রেণীর প্রজনন চলছে বেড়ে;
ওগুলো মানুষ না জন্তু না জড়পদার্থ সে বিষয়ে সংশয় আছে ঢের।
অসম্ভব ক্লেদে আচ্ছন্ন মন,
মেঘে মেঘে ঢেকে যায় সোনালী আকাশ।

নবমীর কালো রাতে এক ফালি চাঁদ,
তোমাকে নিয়ে দেখা বহু দিন আগের সেই অস্পষ্ট স্বপ্ন-
এছাড়া পৃথিবীতে উজ্জলতর কিছু দেখি নাতো?

এই শুভ্রতায় সাঁতরানো ছাড়া আর কোন সত্য নাই জীবন সফরে,
একাকী আমি সাতরে চলেছি গভীর থেকে গভীর জল সীমায়;
পদ্মা মেঘনা মধুমতী পেরিয়ে আরো কোন নদী তরঙ্গের অতল আঁধারে।
আমি হারিয়ে যাচ্ছি বন ঘেরা আকাবাকা নদী তীরবর্তী পলি মাটি অঞ্চলে;

হে মহাসত্য !
তোমাকে আমি খুঁজছি,
নিসর্গের পরতে পরতে
বৃক্ষের পাতায় পাতায়
রূপালী আলোর প্রতিবিম্বে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *