পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : উৎক্ষেপণের ছয় মাসের মাথায় বাংলাদেশের প্রথম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১) এর পুরোপুরি দায়িত্ব ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেসের কাছ থেকে বুঝে পেয়েছে বাংলাদেশ। এখন থেকে এই স্যাটেলাইটের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনাসহ সব দায়িত্ব বাংলাদেশের।
০৮ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরের বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) কার্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের হস্তান্তর’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষে দায়িত্ব বুঝে নেয় বিসিএসসিএল।
থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জিল অবাদিয়া বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হকের কাছে ‘ট্রান্সফার অফ টাইটেল’ হস্তান্তর করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদের কাছে হস্তান্তর করেন।
গত ১১ মে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে দেশের প্রথম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণ হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। ফ্রান্সের এই প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে বাংলাদেশ আজ স্যাটেলাইটটির সম্পূর্ণ মালিকানা বুঝে নেয় ৷
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে স্যাটেলাইটটির মালিকানা বুঝিয়ে দেয় থ্যালেস অ্যালেনিয়া। এরপর বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই দায়িত্ব বিসিএসসিএলেরর কাছে বুঝিয়ে দেন। পরে বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত বাংলাদেশের জন্য। এখন থেকে আনুষ্ঠানিক মালিকানা পেল বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতু তৈরি হলো। তারা আমাদের স্থায়ী বন্ধু হলো।’ স্যাটেলাইটের সবকিছু ঠিক থাকলে তিন বছরের মধ্যে লাভ করা শুরু হবে বলে জানান শাহজাহান মাহমুদ।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এই স্যাটেলাইট আমাদের ঐতিহাসিক স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। এটা শুধু দেশের জন্য গর্ব নয়, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসহ দুই দেশের গর্ব। চ্যালেঞ্জ ছিল উড়বে কি না। কিন্তু তা উড়েছে। এই স্যাটেলাইট দিয়ে কতটা লাভ হবে, কী খরচ হলো, কতটা উপকার পাব, এর চেয়ে আমাদের কাছে বড় অর্জন—আমরা একটা স্যাটেলাইটের মালিক।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ম্যারি আনিক বুখডা বলেন, ‘এই প্রকল্পটা আমাদের জন্য সত্যিই খুব খুশির এবং সন্তোষজনক।’
প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা বঙ্গবন্ধু-১ দিয়ে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অভিজাত দেশের ক্লাবে বাংলাদেশ প্রবেশ করে। বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হয় বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) সচিব শ্যামসুন্দর শিকদার প্রমুখ বক্তব্য দেন। এই উপলক্ষে একটা কেক কাটা হয়। গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকায় পাঁচ একর জমির ওপর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি হয়েছে।
এই স্যাটেলাইট সিস্টেমের নকশা তৈরির জন্য ২০১২ সালের মার্চে মূল পরামর্শকের দায়িত্ব পায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল’। এরপর স্যাটেলাইট সিস্টেম কিনতে ফ্রান্সের তালিস এলিনিয়ার সঙ্গে এক হাজার ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার চুক্তি করে বিটিআরসি।
গত ১১ মে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর কক্ষপথে এটি ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে পৌঁছায়। ইন অরবিট টেস্টসহ (আইওটি) নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
ইতিমধ্যে এই স্যাটেলাইট নানা সফলতার মুখ দেখিয়েছে। এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চাম্পিয়নশিপ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় এবং দুবাইতে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন।


