- আবু তালহা রায়হান (সিলেট থেকে)
পানির অপর নাম ‘জীবন’, অথচ সেই পানিই আজ যেন সিলটেবাসীর জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানিবন্দি মৃতপ্রায় জীবনে সংকটাপন্ন প্রহর গুণছে পুরো সিলেট। মহানগরসহ জেলার ১৩টি উপজেলায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে আরও শতাধিক গ্রাম-এলাকা। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সবকিছুই এখন পানির নিচে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সিলেটের সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যাপ্লাবিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে জেলার সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপেজলা অন্যতম। এখন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষজন পানিবন্দি। বাজারঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম খাদ্যাভাব ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এমন নাজুক পরিস্থিতিতে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলার আলেম ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল্লাহ শাকির। পানি ভেঙে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ অর্থায়ণে বিতরণ করছেন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। প্রতিদিনই শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য বিতরণ করছেন তিনি।
আজ বুধবার (১৭ মে) তৃতীয়দিনের মত উপজেলার সদর ও বড়চতুল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অঞ্চলঘুরে পানিবন্দি অসহায়দের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।এসব ত্রাণের মধ্যে ছিল—চাল, চিড়া, মুড়ি ও মোবমাতিসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি।
ত্রাণ বিতরণকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বড়চতুল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসেন চতুলি, মাওলানা আসাদ, মাওলানা জুনায়দে শামসী, মাওলানা হারিস উদ্দীন, হাফিজ মারুফ আহমদ, মুহাম্মদ মিজান নুরী প্রমুখ।
বন্যাগ্রস্ত বিভিন্ন গ্রামের মানুষজনদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ‘টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বসতঘর ডুবে গিয়ে চরম বিপাকে দিন পার করছি।পানিবন্দি জীবনে বাজারে যেতে না পারায় খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। কঠিন এই সময়ে জনদরদি ভাইসচেয়ারম্যান আবদুল্লাহ শাকির নিজ কাঁধে করে খাদ্য নিয়ে আমাদের দরজায় দরজায় হাজির। তাঁর এমন সেবায় আমরা কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিক!’
ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ শাকিরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘বন্যায় প্লাবিত কানাইঘাট।পানিবন্দি মানুষজন না খেয়ে মৃতপ্রায় জীবন পার করছে। কঠিন এই পরিস্থিতিতে মানুষের খেদমত করার চেষ্টা করছি। প্রতিদিনই বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে মানুষের দেখভাল করছি। প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তাদের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি সাধ্যানুযায়ী। বন্যার প্লাবন থেকে আল্লাহ আমাদেরকে রেহাই দিক, আমার এ ক্ষুদ্রপ্রয়াসগুলোকেও কবুল করুন।’



