পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সরকার ও নিজ দল টোরির (কনজারভেটিভ) চাপের কারণে দলীয় প্রধানের পদ ছেড়েছেন গত বৃহস্পতিবার। এ পরিস্থিতিতে বরিসের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ইতিমধ্যে অনেকেই তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেছেন।
বরিস জনসন সরে গেলে তাঁর জায়গা নিতে পারেন—এমন ব্যক্তির আলোচনায় আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদও। এই দুই মন্ত্রী গত ৫ জুলাই পদত্যাগ করার পর থেকে বরিসের সরকার টালমাটাল হয়ে পড়ে। এর বাইরে বর্তমান মন্ত্রিসভা ও সাবেক মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও আলোচনায় আছেন।
টুইটারে দেওয়া নির্বাচনী প্রচার ভিডিও বার্তায় ঋষি সুনাক বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সময়টা ধরতে হবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ কারণেই আমি কনজারভেটিভ পার্টির পরবর্তী সভাপতি ও আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে শামিল হচ্ছি।’
সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর নানা-নানী ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলের। তাঁর স্ত্রীও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তাঁর স্ত্রী অক্ষতা মূর্তি বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণা মূর্তির মেয়ে। ক্যালিফোর্নিয়ায় পড়াশোনার সময় অক্ষতার সঙ্গে ঋষির পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে শুরু হওয়া প্রেম বিয়েতে গড়ায়।
ভিডিও বার্তায় ৪২ বছর বয়সী ঋষি তাঁর পরিবারের শেকড় তুলে ধরে স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, ‘আমার নানী যৌবনে উন্নত জীবনের আশায় ইংল্যান্ডের বিমানে চেপে এখানে এসেছিলেন। ভালো চাকরিও পেয়েছিলেন। কিন্তু নিজের স্বামী ও সন্তানদের এখানে নিজের কাছে নিয়ে আনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ জমাতে তাঁর প্রায় এক বছর লেগেছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পরিবারই সবকিছু।’
ঋষি বলেন, তাঁর নানীর সন্তানদের মধ্যে তাঁর মা উষা সুনাক একজন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে আসেন। কঠোর পরিশ্রম করে তিনি ফার্মাসিস্ট হিসেবে নিজেকে পরিচিত করাতে পেরেছিলেন। তাঁর বাবা ভারতীয় বংশোদ্ভূত যশবীর। বিয়ের পর তাঁর মা–বাবা সাউদাম্পটনে স্থায়ী হন। সেখানেই ১৯৮০ সালে ঋষির জন্ম হয়।
ঋষি আরও বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে এসেছি, কারণ আমি চাই এই দেশের প্রত্যেকের তাদের সন্তানকে একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। আমাদের দেশ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এটি একটি প্রজন্মের জন্য গুরুতর বিষয়। এখন আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নিই, সেগুলো নির্ধারণ করবে ব্রিটিশ জনগণের পরবর্তী প্রজন্মেরও সুন্দর ভবিষ্যতের সুযোগ থাকবে কি না। আমরা কি সততা ও দৃঢ়তার সঙ্গে এই মুহূর্তগুলো মোকাবিলা করব? এ কারণেই আমি কনজারভেটিভ পার্টির পরবর্তী সভাপতি ও আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে শামিল হচ্ছি। আমি এই দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে চাই।’
সদ্য সাবেক এই অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনা মহামারির সময় আমি সরকারের সবচেয়ে কঠিন বিভাগটি পরিচালনা করেছি। তাই আমার যোগ্যতা যুক্তিতর্কের বাইরে।’
ঋষি সুনাক যদি কনজারভেটিভ পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে দেশটির ইতিহাসে তিনিই হবেন প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
I’m standing to be the next leader of the Conservative Party and your Prime Minister.
Let’s restore trust, rebuild the economy and reunite the country. #Ready4Rishi
Sign up 👉 https://t.co/KKucZTV7N1 pic.twitter.com/LldqjLRSgF
— Rishi Sunak (@RishiSunak) July 8, 2022


