মানি প্রতিবেদক ● বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো (এলডিসি) ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধ শিল্পে মেধাস্বত্বে ছাড় পেয়েছে। আগামী ১৭ বছর ওষুধ তৈরি ও রফতানি ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব খাতে বাংলাদেশকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। ওষুধ শিল্পের প্রতি বর্তমান সরকার যত্নবান বলেই এই শিল্পের দ্রুত উন্নতি ঘটছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে উত্পাদিত ওষুধের কদর বাড়ছে।
তিন দিনব্যাপী নবম ‘এশিয়া ফার্মা এক্সপো’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক অগ্রগতিতে ভারত, পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর জন্য আমরা কাজ করব, যাতে উদ্যোক্তারা ভালো মানের ওষুধ তৈরি করে আরো দেশে রপ্তানি করতে পারেন।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির উদ্যোগে এবং জিপিই প্রাইভেট লিমিটেডের সহযোগিতায় বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে ‘নবম এশিয়া ফার্মা এক্সপো’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির উপদেষ্টা ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস-এর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির।
প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে হলে মানসম্মত ওষুধ প্রয়োজন। সবার জন্যে মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সালমান এফ রহমান বলেন, আমাদের ওষুধ শিল্প এখন একটি মানসম্মত পর্যায়ে চলে এসেছে। আমাদের দেশে তৈরি ওষুধের মানও আগের থেকে অনেক বেড়েছে। এখন আমাদের রপ্তানির দিকে নজর দিতে হবে।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় ওষুধ শিল্পখাত প্রতিনিয়ত নতুন আশার সঞ্চার করছে। বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এই খাত বাংলাদেশের জন্য নতুন নতুন সম্মান বয়ে আনছে। এসময় জানানো হয়, বাংলাদেশেই বিশ্বমানের ওষুধ উত্পাদিত হচ্ছে এবং দেশের মোট অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের ১২৭টি দেশে বাংলাদেশের উত্পাদিত মানসম্মত ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। বক্তারা ওষুধ রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এবারের নবম এশিয়া ফার্মা এক্সপোতে আমেরিকা, চীন, ইংল্যান্ড, জার্মানি, মালয়েশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, ইতালি, জাপান, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর মোট ৩৫টি দেশের প্রায় পাঁচ শতাধিক কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে। এই আয়োজনে রয়েছে ফার্মা প্রসেসিং এন্ড প্যাকেজিং, বায়োটেক ল্যাব ইকুইপমেন্ট, এপিআই ম্যানুফেকচারিং প্লান্টস এবং মেশিনারিজ, ফার্মা ফর্মুলেশন্স এবং কন্ট্রাক্ট ম্যানুফেকচারিং। এতে করে দেশি উদ্যোক্তারা ওষুধ শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ এবং কাঁচামাল সম্পর্কে জানতে পারবে। প্রদর্শনী শেষ হবে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক্সপো খোলা থাকবে।


