বাংলাদেশে ৫১ শতাংশ বেড়েছে ‘অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান’

বাংলাদেশে ৫১ শতাংশ বেড়েছে ‘অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান’

পাথেয় রিপোর্ট : গত দুই বছরে বাংলাদেশে শিশু জন্মের ক্ষেত্রে সিজারিয়ানের হার বেড়েছে ৫১ শতাংশ। বিষয়টিকে ‘অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ বলছে, এতে মা-বাবাদের সন্তান জন্মদানে ব্যাপক পরিমাণে খরচের ভার বহন করতে হচ্ছে।

এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশি মা-বাবারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানে খরচ করেছেন প্রায় চার কোটি টাকার বেশি। জনপ্রতি গড়ে তা ছিল ৫১ হাজার টাকার বেশি। সিজারিয়ানে সন্তান জন্মদানের হার বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মারাত্মক হারে বেশি। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যত শিশু জন্ম নেয়, তার ৮০ শতাংশই হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

আন্তর্জাতিক এনজিওটির তথ্য অনুযায়ী, গেল বছর বাংলাদেশে আট লাখ ৬০ হাজার অপ্রয়োজনীয় এই অস্ত্রোপচার হয়েছে, যেখানে সি-সেকশনের দরকার হলেও তা পায়নি তিন লাখ নারী।

চিকিৎসার দিক দিয়ে সবচেয়ে প্রয়োজনে থাকা নারীরা সিজারিয়ান ডেলিভারির সুবিধা না পেলেও অপ্রয়োজনে এই অস্ত্রোপচারের পেছনে বছরে ৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার খরচ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার ৪ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন এমন অপ্রয়োজনীয়ে প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার ঠেকাতে ডাক্তারদের ওপর নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছে।

এমন প্রবণতার জন্য সংস্থাটি আংশিকভাবে বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা খাতের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছে।

সংস্থাটি বলছে, কিছু অসাধু চিকিৎসক এর জন্য দায়ী, যাদের কাছে সিজারিয়ান একটি লাভজনক ব্যবসা।

বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং নবজাতক ও মাতৃ-স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ইশতিয়াক মান্নান বলছেন, ‘চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সুবিধা আসলে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে না গিয়ে অস্ত্রোপচার করতে অনুপ্রাণিত করে।’

ডা. মান্নান আরো বলছেন, ‘অস্ত্রোপচারের এই জনপ্রিয়তা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে দিন দিন মায়েরা আরো বেশি এই অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের দিকে ঝুঁকছেন।’

সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, বাংলাদেশে সম্পদশালীরা রেকর্ড সংখ্যায় সিজারিয়ানের দিকে ঝুঁকছে, যদিও তা মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশে সিজারিয়ান বেড়েছে। তবে সেগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের তফাৎ হল, সিজারিয়ানের ফলে যে হারে মাতৃ মৃত্যু কমা উচিত এখানে তা হচ্ছে না।

বাংলাদেশের সর্বশেষ জনমিতি ও স্বাস্থ্য সমীক্ষা অনুযায়ী, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৯৬ জনের মৃত্যু হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *