বাংলাদেশি ও আফগানিস্তানিদের নাগরিকত্ব দেবেন ইমরান খান

বাংলাদেশি ও আফগানিস্তানিদের নাগরিকত্ব দেবেন ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেবে পাকিস্তান সরকার। এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, এসব অভিবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট দিয়ে পাকিস্তানে কোনো কাজ বা চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হবে।

রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮) করাচিতে বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি তহবিল গঠন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন। এটি তার প্রথম সরকারি সফর বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়। এছাড়া প্রথম সফরেই তিনি বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের অভিবাসীদের জন্য এমন সুখবর দিলেন।

ইমরান খান বলেন, পরিচয় সংকট থাকার কারণে হাজার হাজার বাঙালি ও আফগান অভিবাসী নানা অপরাধের দিকে চলে যাচ্ছেন। ‘করাচিতে সন্ত্রাসবাদ ও টার্গেট হত্যাকাণ্ড কমেছে। কিন্তু ছোট ছোট অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিচয় সংকট।’ এটি একটি অবহেলিত পরিস্থিতি। তারা অশিক্ষিত এবং বেকার। এছাড়া তারা পাকিস্তানে বসবাসকারী বাঙালি এবং আফগান, যোগ করেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই অভিবাসীরা কয়েক দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন। তাদের সন্তান এখানে জন্মগ্রহণ করেছে। কিন্তু তাদের পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট নেই।

ইমরান খান আরও বলেন, এই বঞ্চিত অভিবাসীরা পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট ছাড়া কোনো কাজ বা চাকরি পাচ্ছেন না। সেজন্য তারা অপরাধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাই এ সংকট সমাধানে তাদের কম্পিউটারাইজড জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের সরকার।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এক বিশাল সংখ্যক বাংলাভাষী মানুষ পাাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচির দক্ষিণাঞ্চলে আটকা পড়ে। যারা কর্মসূত্রে সেখানে ছিল। তাদের সংখ্যা এখন প্রায় ২ লাখ হয়েছে। আর দেশটিতে আফগার শরণার্থী আছে প্রায় ১৪ লাখ।

ইমরান খান বলেন, গরীব বাংলাদেশিরা এখানে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাস করছে। এদেশে জন্ম নেওয়া তাদের সন্তান-সন্ততিরাও এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। তাদের প্রতি আমরা অবিচার করতে পারি না। তবে পাকিস্তানে প্রায় ২০ লাখ বাঙালি ও বার্মিজ অভিবাসী রয়েছেন। তারা পরিচয়পত্র পাবেন না। তারা অবৈধ অভিবাসী। তাদের প্রত্যাহার করা হবে। পাকিস্তান নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, সে দেশের ভূখণ্ডে ১৯৫১ সালের পর জন্মগ্রহণকারী যে কেউ পাকিস্তানী নাগরিকত্বের অধিকারী। কিন্তু পাকিস্তানে বর্তমানে যারা সরকারি শরণার্থী কার্ড ব্যবহার করছেন তারা নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন না।

যেসব উর্দুভাষী শরণার্থী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আটকা পড়ে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী অবশ্য তাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *