বাংলাদেশ-সৌদি আরব প্রতিরক্ষা চুক্তি আজ

বাংলাদেশ-সৌদি আরব প্রতিরক্ষা চুক্তি আজ

পাথেয় রিপোর্ট : সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আজ বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রতিরক্ষা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হবে।প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন শেষবার সৌদি আরব সফর করেছিলেন তখনই মাইন সুইপিং, সিভিল কন্সট্রাকশনের মতো বিষয়ে একটি প্রস্তাব ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি বিবেচনা করবেন।’

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের নবনির্মিত ভবন পরিদর্শনকালে এ কথা জানান।

রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, সেনাপ্রধান সৌদি আরবের যৌথ বাহিনীর প্রধান ফায়াদ আল রুয়ায়লির সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি দু’দেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া সেনাপ্রধান সোমবার সৌদি আরবের সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আয়েশের সঙ্গে রিয়াদে এক বৈঠক করেন।

পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে তাতে বিবেচনায় থাকবে তিনটি বিষয়: অ্যাডভাইজরি, মাইন সুইপিং এবং সিভিল কন্সট্রাকশন। বিদেশে সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পূর্বঘোষিত নীতিতেই অটল আছেন; ব্লু হেলমেট (জাতিসংঘ বাহিনী) ছাড়া বাংলাদেশ তার সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাবে না। তবে মক্কা ও মদিনায় হামলা হলে ব্লু হেলমেট ছাড়াও বাংলাদেশ সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব-ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মাইন অপসারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি প্রস্তুত করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইটি ব্যাটেলিয়নের প্রায় এক হাজার ৮০০ সেনা সদস্য মাইন অপসারণের কাজে নিয়োজিত হবে, যা সৌদি আরব ও বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সৌদি ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মাইন অপসারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

এ জন্য একটি সমঝোতা চুক্তি প্রস্তুত করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুটি ব্যাটালিয়নে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন সেনাসদস্য মাইন অপসারণ কাজে নিয়োজিত হবেন, যা সৌদি আরব ও বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

আজিজ আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যদের সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক, বেসামরিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক খাতে নিয়োজিত করার প্রস্তাব দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চিকিৎসকরা কাজের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন।

সেনাপ্রধান রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের নবনির্মিত ভবন পরিদর্শন করেন। এ সময় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদকে স্বাগত জানান।

মিশন উপপ্রধান ড. নজরুল ইসলাম, ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরীসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সেনাপ্রধানের সফরসঙ্গী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *