পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলা কারো পরওয়া করে না মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যারা বাংলাকে হিংসে করার পরিবর্তে আগে বাংলাকে দেখে শেখো। বাংলার ভালো জিনিস অনুসরণ করো, তারপর বাংলাকে জ্ঞান দিও। বাংলা কারো পরওয়া করে না, কারো কাছে মাথা নত করে না।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, হিন্দু-মুসলিমের রাজনীতি করে, তপশিলি-আদিবাসীদের ধ্বংস করে মানুষকে অযথা বিরক্ত করবেন না।
৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার কুচবিহারে এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে টার্গেট করে ওই মন্তব্য করেছেন বলে জানা যায়।
অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এনআরসি প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অসমে ৪০ লাখ বাঙালিকে তাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। তারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু বাংলায় এটা হয় না। বাংলায় আমরা সবাইকে ভালোবাসি। সকলের আত্মমর্যাদার অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, সভ্যতার অধিকার, সংস্কৃতির অধিকার আছে। বাংলায় সকল মানুষের সব অধিকার আছে, বাংলা মাথা উঁচু করে চলে। কারোর ওপর অত্যাচার হলে, বাংলা তাকে নিজের মতো করে আশ্রয় দেবে। তিনি বলেন, অসমে বাঙালি খেদাও, গুজরাটে বিহারি খেদাও হচ্ছে। আত্মমর্যাদার লড়াইয়ে আমার ভাইবোনের উপরে যদি অত্যাচার হয়, তা সে বাঙালি, বিহারি বা অসমিয়া যে-ই হোন, বাংলা তাদের নিজের মতো করে আশ্রয় দেবে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপি ঐক্য ও সংহতিকে বিপদে ফেলার পাশাপাশি দেশের ইতিহাসকেও বদলে দিতে চাচ্ছে। তারা গান্ধীজি, মাওলানা আজাদ, ভগৎ সিং, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলকে ভুলিয়ে দিতে চাচ্ছে।
এর আগে এনআরসির সমন্বয়ক বলেছেন, এটা শুধুমাত্র চূড়ান্ত খসড়া, চূড়ান্ত তালিকা নয়। যাদের নাম প্রকাশিত হয়নি, তারা অভিযোগ জানানো বা সংশোধনের আবেদন জানাতে পারবেন। এনআরসি খসড়া তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র গোলযোগের আশঙ্কায় অসমের বরপেটা, ডিমা হাছাও, সোনিতপুর, করিমগঞ্জ, গোলাঘাট, ধুবড়ীসহ ৭ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। অসম ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আধাসামরিক বাহিনীর ২২ হাজার জওয়ানকে পাঠানো হয়েছে। রাজ্য পুলিশকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেয়াসহ সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, আজ অসমে এনআরসি’র খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সকলেই জানেন এটা চূড়ান্ত তালিকা নয়, যেকোনো ব্যক্তির অভিযোগ ও দাবি জানানোর সুযোগ দেয়া হবে। আইনে এর সুযোগ রয়েছে। যেকোনো ব্যক্তি শুনানির সম্পূর্ণ সুযোগ পাবেন। এরপরেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে। কিছু মানুষ ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি সকলকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, কোনোপ্রকার ভয় বা আশঙ্কার কোনো প্রয়োজন নেই। এনআরসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে করা হয়েছে। হতে পারে কিছু মানুষ প্রয়োজনীয় নথি দিতে পারেননি। এজন্য তাদেরকে দাবি ও অভিযোগ জানানোর পূর্ণ সুযোগ দেয়া হবে।


