বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধারা কোণঠাসার শিকার : হাফিজ

বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধারা কোণঠাসার শিকার : হাফিজ

বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধারা কোণঠাসার শিকার : হাফিজ

পাথেয় টোয়েন্টিফের ডটকম : দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ; সেই সঙ্গে নেতা-কর্মীদের ‘তোষামোদ’ ছেড়ে মুখ খোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

হাফিজ বলেছেন, চিঠি পেয়ে অপমানিত বোধ করে পদত্যাগের কথাও ভাবছিলেন তিনি। তবে জবাব দেওয়ার পর শীর্ষ নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন। সম্প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে দুই ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন ও শওকত মাহমুদকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ দর্শাতে বলা হয়। শওকত মাহমুদ জবাব দেওয়ার দুদিন পর শনিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের জবাব পাঠিয়ে দেওয়ার পর বনানীতে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের সামনে আসেন হাফিজ। ভোলার লালমোহন-তমজুদ্দিন আসনে ছয় বারের সংসদ সদস্য হাফিজ ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে মন্ত্রী ছিলেন।

বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত এই মুক্তিযোদ্ধা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর। ফুটবলার হিসেবেও দেশে খ্যাতিমান ছিলেন তিনি।

হাফিজ বলেন, “একজন যুদ্ধাহত, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বিজয়ের মাসে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে অসৌজন্যমূলক ভাষায় অসত্য অভিযোগ সম্বলিত কারণ দর্শানোর নোটিস পেয়ে হতবাক হয়েছি। “আমার বিনীত অনুরোধ আমার বক্তব্য স্থায়ী কমিটির সদস্যের সামনে উপস্থাপন করা হোক। বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমাকে যদি দোষী সাব্যস্ত করা হয়, আমি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত আছি। আমি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি সর্বদাই শ্রদ্ধা পোষণ করি।” বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে যে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাতে ‘অনেক ভুল’ পাওয়ার কথা বলেন ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ। তিনি বলেন, “আমি বিগত ২৯ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট, আমার যোগদানের তারিখ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাবার তারিখ, আমার নামের বানানসহ অনেক ভুলই রিজভীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে দৃশ্যমান। “আমি ২২ বছর ধরে দলের অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছি। দলের ভাইস চেয়ারম্যানকে একজন যুগ্ম মহাসচিব (আদিষ্ট না হয়েও) এমন কঠিন, আক্রমণাত্মক ভাষায় কৈফিয়ত তলব করায় অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছি। এখানে প্রটোকল ও সৌজন্যতার ব্যত্যয় ঘটেছে। ব্যক্তি রুহুল কবির রিজভী একজন ভদ্র, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী নেতা, তা সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। তার কাছ থেকে এধরনের চিঠি আশা করিনি।”

হাফিজ বলেন, “আমার সামরিক বাহিনীর বন্ধুরা যাদের সাথে চাকুরি-বাকরি করেছি, তারা সবাই এবং আমার ব্যক্তিগত বন্ধুরা যারা রাজনীতি করে না, তারাই সবাই বলে যে, আপনি আজকেই পদত্যাগ করেন। আমি চিন্তাও করেছিলাম। “আমার প্রিয় নেতা-কর্মীরা সেই এখান থেকে আড়াইশ মাইল দূরে নদী পার হয়ে লঞ্চে, নৌকায়, মেঘনা নদীর পার থেকে এখানে এসে অনুরোধ করেছে- আপনি পদত্যাগ করবেন না, অবসর নেবেন না। “তাদের অনুরোধে আজকে আমি পদত্যাগ করলাম না। আমি দেখতে চাই্, এই আমার ব্যাখ্যা তাদের (নেতাদের) কাছে সন্তোষজনক হয় কি না। তারপরে আমি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”

হাফিজের সঙ্গে ভোলার লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলার জাকির হোসেন, শাহাদাত হোসেন, বাবুল পাঞ্চায়েত, কবির হাওলাদার, ওমর ফারুক রিন্টু শতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

দলের কাউন্সিল দাবি করে হাফিজ বলেন, “বিএনপির একজন নগন্য কর্মী হিসেবে কয়েকটি সুপারিশ পেশ করতে চাই। ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই দলের জাতীয় কাউন্সিল আহবান করা হোক।”

কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি বাণিজ্য এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে আসায় তার তদন্তও দাবি করেন তিনি।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাফিজ বলেন, “বিএনপি নেতা-কর্মীদের চিন্তা করতে বলি, দেশের জনপ্রিয় দল বিএনপি কেন আজকে ক্ষমতার বাইরে? কারা এর জন্য দায়ী? “চিন্তা করেন, মুক ও বধির না হয়ে চিন্তা করেন। দলকে ভালোর জন্য কনট্রিবিউট করেন। দলকে সাজেশন দেন, কী করা উচিত। কেবলমাত্র তোষামোদ করে দায়িত্ব শেষ করবেন না।”

তিনি বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা । আমার নেতা জিয়াউর রহমান বলে গিয়েছেন, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমার কাছেও আমার দেশ সবচাইতে বড়।”

হাফিজ বলেন, “এদেশে গণতন্ত্র আসুক আমি চাই। গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য, মানবিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্যে, জনগনের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবার জন্যে, বাক স্বাধীনতা ফিরে পাবার জন্যে এবং এই অবৈধ সরকারকে বিদায় করার জন্যে যে কোনো সংগ্রামে আমি সব সময় প্রস্তুত থাকব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *