চাঁদপুর প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফেরে না। নৌকায় ভোট দিলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি-জামায়াত সরকারে এলে লুটে খায়।
রোববার বিকেলে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
তিনি সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, চাঁদপুরের উন্নয়নের জন্য যা যা প্রয়োজন তা করেছি। আমরা সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, জনগণের সেবা করছি। নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফিরে না। বাঙালি মাতৃভাষার অধিকার পেয়েছে, স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি-জামায়াত সরকারে এলে লুটে খায়। সন্ত্রাস, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলায় তারা পারদর্শী। তারা মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। আওয়ামী লীগ দেশ গড়ে তোলে, উন্নয়ন করে। কিন্তু তারা ধ্বংস করে।
শেখ হাসিনা বলেন, ধিক্কার জানাই বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে, যারা ওই স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের হাতে তুলে দিয়েছিল এদেশের পতাকা। অবশ্য তাদের লজ্জা-শরম কম, তারা নিজেরাইতো বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, জনগণের সেবা করছি। নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফেরে না। বাঙালি মাতৃভাষার অধিকার পেয়েছে, স্বাধীনতা পেয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশ গড়ে তোলে, উন্নয়ন করে। কিন্তু তারা ধ্বংস করে, লুটে খায়। সন্ত্রাস, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলায় তারা পারদর্শী। তারা মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। পঁচাত্তরের পর যারাই ক্ষমতায় এসেছিল, কেউ-ই উন্নয়ন করেনি। নিজেরা লুটপাট করেছে, চুরি করেছে, দুর্নীতি করেছে। এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলায় কারাগারে (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) সাজা খাটছেন।
সার্বিকভাবে দেশের উন্নয়নে সরকারের কর্মসূচি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্বাধীনতার সুফল বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছানো। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দিচ্ছি, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, এমনকি উচ্চশিক্ষায়ও বৃত্তি দিচ্ছি। মায়েদের মোবাইল ফোনে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে।
সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ মোবাইল ফোন সবার হাতে হাতে। আওয়ামী লীগই সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিয়েছে। এখন প্রবাসে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন সবাই। কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছি। এখন আমরা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবো, জেলায় জেলায় আইটি পার্ক হবে। সেখানে কর্মসংস্থানও হবে।
দারিদ্র্য বিমোচন সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করেছি। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়িয়েছি। গ্রামের মানুষের উন্নয়নে কর্মসংস্থান ব্যাংক করে দিয়েছি,
যেন বিনা জামানতে ঋণ নেওয়া যায়। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন করেছি। কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি, সেখান থেকে মানুষ ৩০ প্রকারের ওষুধ পাচ্ছে। নদীভাঙনে যারা ঘর হারিয়েছেন, তাদের ঘর করে দিয়েছি। কেউ গৃহহারা থাকবে না। জাতির পিতা গুচ্ছগ্রাম করেছিলেন, আমরা তা করে দিচ্ছি তার পথ অনুসরণ করে। আমি চাই না ভিক্ষুক থাকুক। কারও কাছে হাত পেতে নয়, বাঙালি বিজয়ী জাতি হিসেবে চলবে মাথা উঁচু করে।
২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে দিতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তখন আমি আমার দেশের সম্পদ গ্যাস বেচতে রাজি হইনি বলে ক্ষমতায় আসতে দেয়নি। আর খালেদা জিয়া দেশের সম্পদ বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসে।
সন্তানেরা যেন বিপথে না যায়, সেজন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসে জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাঁদপুরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে দেবো, নদীবন্দর করে দেওয়া হবে। ২০২০ সালে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করবো, ২০২১ সালে এ দেশকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। আর ২০৪১ সালের মধ্যে গড়ে তুলবো উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলা। এজন্য সরকারের ধারাবাহিকতা জরুরি। যারা যুদ্ধাপরাধীদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল এবং সংসদে বসিয়েছিল তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তাই নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।
জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী-সমর্থকদের কাছে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার চান। উপস্থিত জনতাও হাত তুলে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন শেখ হাসিনার কাছে।


