নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘খালেদা জিয়াকে জেলে রাখায় তার ও তার দলের জনপ্রিয়তা এবং ভোট বাড়ছে’ বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, এগুলো বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিএনপি নেতারা চান বেগম জিয়া কারাগারেই থাক। কারাগারে থাকলে বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়বে, এমনটা মনে করেই আসলে তারা খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখতে চায়।
সোমবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হানিফ বলেন, চুরি করে কারও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এমন ঘটনা কেউ শুনেছেন? তাও আবার এতিমের টাকা। আর এতে নাকি তার (খালেদা জিয়ার) জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দুর্নীতিবাজ নেতা-নেত্রীকে যে বিএনপি নেতাকর্মীরাও চাইছে না, সেটা তাদের কথাবার্তায় প্রমাণিত হয়েছে। দেশের জনগণ তো দূরের কথা এটা তারা (বিএনপি) নিজেরাও চায় না।
এই মামলায় সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আদালত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এই মামলার রায় দিয়েছে। কিন্তু এটা নিয়ে আজকে বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে চায়।
তিনি বলেন, মামলা হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। ১০ বছর ধরে এই মামলা চলেছে। এখানে আমাদের কী দোষ আছে? তারা (বিএনপি) তাদের অপরাধকে সরকারের ওপর চাপানোর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার দুর্নীতি করেছে, এটা দেশের মানুষ সবাই জানে।
অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের সমালোচনা করেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, এই হত্যাকাণ্ড আজকে থেকে শুরু হয়নি। এটা জাতি দেখেছে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়। সেই সময়ও কিন্তু আমরা দেখেছি, ধর্মের দোহাই দিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরই আমরা অনেকটাই এদের প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছি। এখনো যারা আছে, তারা বিএনপি-জামায়াতের মদদেই সক্রিয় আছে।
স্বাধীনতার মাস মার্চে জাতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, সময় এসেছে। এই বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি সন্ত্রাস, উগ্র মৌলবাদ-এগুলোর এখনো যে ছোটখাট তৎপরতা আছে তা নির্মূল করেত হলে বর্তমানে দেশের একমাত্র অপ্রতিরোধ্য নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।
সাপ্তাহিক ক্রাইম জগতের প্রকাশক ও সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ।


