বিক্ষোভ প্রদর্শনে সতর্ক থাকুন
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : ভোলার ঘটনায় নাড়া দিয়েছে সকলকে। চার পাঁচটা তাজা প্রাণ ঝরে গেল। সবাই ছিল আশেকে নবী। এরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খাঁটি প্রেমিক। রাসুলের ভালবাসার কাছে দুনিয়াটা তুচ্ছ। দুনিয়ার সুখ -শান্তি ত্যাগ করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর ইজ্জত রক্ষার্থে জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে। নিঃসন্দেহে তাঁরা শহীদ। তাদের মর্য্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক বেশী।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আমাদের দেশে নবী প্রেমিক গণ কে দেখেছি, তাদের ঈমানদীপ্ত হুঙ্কারে কেঁপে উঠেছে বাতিলের মসনদ। ভীত- সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে রাসুল এর দুশমুনেরা।
বহু নবী প্রেমিক কে দেখেছি, নিজের জীবন কে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। রাসুলের ইজ্জত হেফাজতের জন্য নিজের জান কোরবান করতে কুন্ঠা বোধ করেন নি।
যুগে যুগে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর দুশমুন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। ঐ দুশমুনদের দমন করতে নবী প্রেমিকগণ জাগ্রত হয়েছেন। আশেকে নবীরা যখন জেগে উঠেছেন, তখনই সে সব নবীর দুশমুনেরা পালাতে বাধ্য হয়েছে।
আমরা ছোট বেলায় দেখেছিলাম, কুখ্যাত সালমান রুশদীর বিরুদ্ধে আন্দোলন। যে সালমান রুশদী “স্যাটানিক ভার্সেস” লিখে আমাদের নবীকে অপমান করে ছিল। সে সময়ে সারা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠে ছিল। বাজেয়াপ্ত হয়ে ছিল সে বই।
আমাদের বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে নবীর দুশমুনেরা গজিয়ে ওঠে। তবে ঈমানদার তৌহিদী জনতার সংগ্রামের চোটে পালাতে বাধ্য হয় সে সব দুশমুনেরা।
কুখ্যাত তসলিমা নাসরিন সেই নব্বই দশকে ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে কটুক্তি করে ছিল। তৌহিদী জনতা এমন ভাবে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই আন্দোলনে ভীত হয়ে রাতারাতি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়ে ছিল তসলিমা।
আলেম ও ঈমানদার জনতার তোপের মুখে তসলিমা নাসরিন যে , সেই নির্বাসনে গিয়েছিল, আজো দেশে ফিরতে পারেনি। বড় বেইজ্জতির সাথে তার জীবন কাটছে।
বিগত ২০১৩ সনে কিছু নাস্তিক ব্লগার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর শানে বেয়াদবি করে ছিল। আল্লাহর রাসুলের ইজ্জত নিয়ে টানাটানি করে ছিল। সে সময়ও জেগে উঠে ছিল তৌহিদী জনতা। সারাদেশের সব জায়গাতে আন্দোলন তুঙ্গে উঠে ছিল সে সময়।
এভাবে সব সময়। যেখানে ফেরাউন সেখানেই মুসা। যেখানে বাতিল মাথা চাড়া দেয়, সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আবার হক প্রজ্বলিত হয়। যখন কোথাও নবীর দুশমুনেরা লাফালাফি করে, সাথে সাথে সেখানে নবী প্রেমিকগণ জেগে ওঠেন।
আমাদের দেশের ওলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে সর্ব প্রথম মানুষ জেগে ওঠে। আলেম- উলামার ডাকেই মানুষ ঝাপিয়ে পড়েন।
ইসলামের নামে বহু দল আছে, তবে আলেম – উলামা ও হক্কানী পীর মাশায়েখগণই এসব আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকেন। আলেমদের সংগঠন ও চরমোনাই পীর সাহেবের সংগঠনই সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখেন সকল আন্দোলনে।
আমাদের আলেম সমাজ ও পীর মাশায়েখগন যে রকম নিষ্ঠার সাথে এবং শান্তি পুর্ণ ভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেন, সেটা বেনজীর। ওরকম শান্তি পুর্ণ আন্দোলন সংগ্রাম আর কেউ দেখাতে পারবে না।
আজ পর্যন্ত কোথাও আলেমদের আন্দোলনে অপ্রীতিকর ঘটেনি। কোথাও জ্বালাও পোড়াও, ভাংচুরের ঘটনা আলেম এবং পীর মাশায়েখদের কাজ নয়। এবং তাঁরা এগুলো করেও না।
আলেম এবং পীর মাশায়েখগণ তারা নিরীহ, শান্ত- শিষ্ট। কোন সন্ত্রাসী কাজের সাথে তারা কখনো জড়িত থাকে না।
অতীব দুঃখের বিষয়, আলেম- উলামা এবং পীর মাশায়েখদের সহজ – সরলতায়, তাঁদের কাঁধে সওয়ার হয়, ইসলামের নামধারী কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপ। ওরা আলেমদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে ব্যবহার করতে চায়। এবং আলেম- উলামার আন্দোলনে প্রবেশ করে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়ে ফেলে, শেষমেষ আলেমদের আর ইজ্জত থাকে না।
বিগত হেফাজতের আন্দোলনের সময় দেখেছি ওদেরকে। ওরা কিভাবে হেফাজতের শান্তিপুর্ণ আন্দোলন কে অশান্ত করে তুলে ছিল। হেফাজতের আন্দোলনে অপকর্ম ঘটায়ে আলেমদের মুখে চুন -কালি মেরে ছিল। শেষ পর্যন্ত হেফাজতের আন্দোলন শেষ হলো, ওদের ষড়যন্ত্রের কারণে।
আবার কিন্তু নতুন এক ইস্যু সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদ অবশ্যই করতে হবে। আমাদের সকলের ঈমানের দাবি এটা।
তবে সতর্ক হতে হবে এবার। ওরা কিন্তু আগের মতই। ওদের চরিত্রের কোন পরিবর্তন আজো হয় নি। ওরা আমাদের শান্তিপুর্ণ আন্দোলনে প্রবেশ করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যেন ঘটাতে না পারে। আবার আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে যেন না নিতে পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকা চাই সকলের।
লেখক : শিক্ষক


