পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘বিজেপি আরএসএস বাংলায় এনআরসি নিয়ে ইট মারলে পাটকেল খেতে হবে’ এমনই কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন জমিয়তে উলামা হিন্দের রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৫ সে্পটেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের সিউড়িতে সংগঠনের আমন ও একতা সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী অভয় বার্তা দিয়ে বলেন, বাংলায় এনআরসি কোনভাবেই চালু হবে না, আর সাধারণ মানুষের হয়রানি রুখতে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা করবে জমিয়তে উলামা হিন্দ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি নুরে আলম চৌধুরী, সংগঠনের জেলা সভাপতি আনিসুর রহমান সহ জেলা ও অন্যান্য রাজ্য নেতৃত্ব।
তিনি আরও বলেন, এনআরসি আতঙ্কে পশ্চিমবাংলায় মধ্যে বেশ কয়েকজন আত্মঘাতী হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে তা দূর করতে উদ্যোগী হল জমিয়তে উলামা হিন্দ। সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই কলকাতায় সাধারণ মানুষকে আইনি সহায়তার জন্য লিগাল সেল খোলা হয়েছে। কলকাতার পাশাপাশি বীরভূম ও অন্যান্য জেলাতেও খোলা হচ্ছে। এখান থেকে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ক্লাবগুলোকে এনআরসি বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সহায়তা প্রদান করার জন্য আহ্বান জানান।
জমিয়তে উলামা হিন্দের রাজ্য সভাপতি বলেন, আসামের মানুষ বিজেপিকে পাটকেল দিতে পারেনি কিন্তু বাংলার মানুষ সেটা পারবে। অসমের নাগরিকত্ব জন্য এনআরসি চুক্তি ছিল কিন্তু বাংলার সেটা নেই। পরিবারের কোনো কাগজপত্র নিয়ে আটকে গেলে আমরা আপনাদেরকে যেকোনো ভাবে সহায়তা করবো। কলকাতা উচ্চ আদালতের সাড়ে সাতশ আইনজীবী আছে তাদের সাথে যোগাযোগ হয়েছে তারা একটি আইনি সেল করেছেন। রাজ্যে ৬৯০০০ আইনজীবী আছেন। তারাও আমাদের সঙ্গে আছেন। বীরভূমে সেই আইনি সেল করা হবে। আমরা অভয় দিচ্ছি কোন বাঙালের গায়ে হাত আমরা দিতে দেবো না। এনআরসি হবে না কিন্তু আমাদের নিজের কাগজপত্র ঠিক করে রাখবো। আসামের এখনো চার লক্ষ মানুষ আছে যারা কোনো কাগজপত্র দাখিল করতে পারেনি তারা কিন্তু ভারতবর্ষের ভূমিপুত্র। তাদের কাগজপত্র হয় বন্যাতে বা ঘর ভেঙে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আসামের ১৯ লক্ষ এনআরসি তে বাদ পড়া মানুষের মধ্যে ১২ লক্ষ্যই হলো বাঙালি। তাদের পাশে আমরা আছি। আমাদের আইনি সহায়তা কেন্দ্র আছে তা ছুটির দিন বেলা ১০ টা থেকে ১১:০০ এবং প্রতিদিন রাত্রি আটটায় থেকে ফোনে সহায়তা করবেন। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হবার কোন কারণ নেই। এদেশ থেকে কাউকেই বের করে দেওয়া যাবে না। আমাদের সংগঠন মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আদিবাসী সবার সঙ্গেই আছে।


