মাহমুদ এলাহী : পবিত্র মাহে রমজানের আগমনে মুমিনের হৃদয়ে যেমন আনন্দের বন্যা বয়ে যায়; তদ্রুপ রমজান বিদায়লগ্ন মুমিনদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে যায়। তাই সবাই বাঁধভাঙা চোখের পানি দিয়ে তাকে বিদায় জানায়। আল বিদা ইয়া মাহে রমজান, ‘আল বিদা’ বিদায় হে মাহে রমজান, বিদায় তোমায়।
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নেয়ামত প্রাপ্তির উপর শোকর করা যেমনি সুন্নত, তেমনিভাবে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতের বিদায়ের উপর আফসোস করাও সুন্নত। একজন আশেকে রাসূল মাহে রমজানুল মোবারকের বিদায়ের উপর আফসোস করে বলেছেন- ‘আফসোস তো রুখসোদ হুয়া, মাহে মোবারক আল বিদা, রোকে দিল মে ইউ কাঁহা, মাহে মোবারক আল বিদা’ সম্পূর্ন কোরআন পাকে ১২টি মাসের মধ্যে কেবল রমজান মাসের নামই জিকির করা হয়েছে, অন্য কোন মাস নয়। যেমন- শাহরু রামাদ্বানাল্লাজী উনঝিলা ফিহিল কোরআন, (সূরা আল বাকারা)।
আরবিতে বাকী যে ১১টি মাস রয়েছে তাতে শুধু নির্দিষ্ট তারিখে ইবাদত- বন্দেগী করা হয়। যেমন মহররমের ১০ তারিখে পবিত্র আশুরা, রজব মাসের ২৭ তারিখ পবিত্র মিরাজুন্নবী, শাবান মাসের ১৪ তারিখ শবে বরাত, যিলহ্জ্জা মাসের ৭,৮,৯,১০,১১ ও ১২ তারিখ ইত্যাদি । কিন্তু মাহে রমজানে এধরণের কোন নির্দিষ্ট দিন-রাত বা মুহুর্ত নেই, বরং রমজানের চাঁদ উদিত হবার সাথে এবং রমজান মাস বিদায় হবার পূর্বক্ষন পর্যন্ত প্রতিটি মুহুর্তেই আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত হয়।
হযরত জাবির রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘যখন মাহে রমজানের বিদায়ের মুহুর্ত হয়, তখন আসমান, জমিন এবং সমস্ত ফেরেশতারা আল্লাহর দরবারে অকাতরে কাঁদতে থাকে। কারণ, রমজান আরম্ভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ পাক আসমানের দরজা, জান্নাতের দরজা এবং রিজিকের দরজাগুলো খুলে দিয়েছেন। আসমানের ফেরেশতারা এই বলে কাঁদতে থাকে, আল বিদাউ আল-বিদাউ ইয়া শাহ্রুল রামাদ্বান, আল বিদায় আল বিদাউ ইয়া শাহ্রুল কোরআন।’
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেন, ‘মাহে রমজান বিদায় হওয়া উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য মুসিবত । সাহাবায়ে কেরামরা জিজ্ঞেস করলেন, ওয়ামাম মুসিবাতি ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বিদায় ইয়া শাহ্রুল রামাদান।’


