বিদেশিদের বাংলাদেশের ফার্নিচার কিনতে আগ্রহ বাড়ছে

বিদেশিদের বাংলাদেশের ফার্নিচার কিনতে আগ্রহ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদেশীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ফার্নিচার। ওই খাতে দিন দিন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও নেপালে ফার্নিচার রপ্তানি হয়। গার্মেন্টসের মতো ফার্নিচার কিনতেও বিদেশী ক্রেতারা এদেশে আসতে শুরু করেছে। মূলত গুণগতমান এবং যুগোপযোগি নকশায় ফার্নিচার তৈরির কারণেই বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের আসবাবপত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মানের সঙ্গে দামও সহনীয় হওয়ায় বিদেশিরা বাংলাদেশ থেকে থেকে ফার্নিচার কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আর এ খাতের উন্নতি হলে দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার আয়ও বাড়বে। ইপিবি এবং ফার্নিচার শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ফার্নিচার রপ্তানিতে ইতঃপূর্বে চীন এগিয়ে ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা হাইটেক প্রযুক্তির দিকে যাচ্ছে। ফলে ফার্নিচারের বাজার এখন ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের দিকে আসছে। এখন বাংলাদেশের এই বাজার ধরার বড় সুযোগ রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক এ বাজারের জন্য বাংলাদেশের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা গেলে রপ্তানি আয় বাড়বে। এমনকি গার্মেন্টস খাতের পরেই এ খাত থেকে বড় আয় হওয়ার সম্ভাবনা। আর এ খাত শ্রমঘন হওয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ারও সুযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, গত এক দশক ধরে ক্রমান্বয়ে ফার্নিচার ও গৃহস্থলি সামগ্রীর রপ্তানি বাড়ছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ফার্নিচার রপ্তানি ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে এবং ওই অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৬ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলারের ফার্নিচার রপ্তানি হয়েছে। অথচ এর আগের অর্থবছর ২০১৬-১৭ রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ২৫ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে ফার্নিচার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। তার বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬ কোটি ৩১ লাখ ডলারের। সুতরাং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২১ লাখ ডলার রপ্তানি আয় বেশি হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও নেপালে ফার্নিচার রপ্তানি হয়। অবশ্য হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি রপ্তানি করছে। তবে সরকারের নীতিগত সহায়তা পেলে এ শিল্পের আরো উন্নয়ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সূত্র আরো জানায়, নিত্যনতুন নকশা, মানসম্মত কাঠ আর কারিগরদের দক্ষতায় তৈরি করা বাংলাদেশের আসবাবপত্রের মান খুব ভালো। ফলে প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের বিপুল চাহিদা মেটাতেও সক্ষম হচ্ছে। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য গুনগতমান উন্নয়ন এবং ডিজাইনে প্রতিনিয়ত নতুনত্ব আনা হচ্ছে। তবে ফার্নিচার রপ্তানি বাড়াতে হলে সরকারের নীতি সহায়তা প্রয়োজন। বর্তমানে ফার্নিচার তৈরির জন্য আমদানি করা কাঁচামালের উপর অনেক বেশি শুল্ক দিতে হয়। ক্ষেত্র বিশেষে ভ্যাটসহ সেটা ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে যায়। আর রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা হিসাবে ১৫ শতাংশ ফেরত পাওয়া যায়। তাতে শুল্ক ও নগদ সহায়তার মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি হয়ে যায়। সেজন্য কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহার কমানোর দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ আসবাবপত্র রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও হাতিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান জানান, প্রতিবছরই দেশে ফার্নিচার ও হোমডেকর ফেয়ার করা হয়। সেখানে বিদেশি বায়ারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তার বাইরেও বায়াররা আসছেন।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য জানান, ফার্নিচার রপ্তানি বাড়াতে রপ্তানির বিপরীতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আর নতুন বাজার সৃষ্টিরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈচিত্রপূর্ণ পণ্য তৈরিতেও সরকার ব্যবসায়ীদের সহায়তা করছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *