বিদেশি বিনিয়োগে উন্মোচিত হোক অর্থনীতির সম্ভাবনার দ্বার

বিদেশি বিনিয়োগে উন্মোচিত হোক অর্থনীতির সম্ভাবনার দ্বার

বিদেশি বিনিয়োগে উন্মোচিত হোক অর্থনীতির সম্ভাবনার দ্বার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের উন্নয়নে অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিদেশী বিনিয়োগ। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। বাংলাদেশ বরাবর বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করছে। বিদেশিরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ অনেক কিছুই করেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, জাপানের বেশ কিছু কম্পানি এরই মধ্যে বাংলাদেশের অটোমোবাইল, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্য-প্রযুক্তি, সার কারখানা, অবকাঠামো, টোব্যাকোসহ কয়েকটি খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে। করোনায় যখন বিশ্বের বড় বড় দেশ তাদের অর্থনীতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন জাপানি বিনিয়োগের এই খবর নিশ্চয় বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন।

আড়াইহাজারে জাপানের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্লট বরাদ্দ দেওয়া শুরু হলে এই বিনিয়োগ আরো কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা। জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের তথ্যের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে বাংলাদেশে কর্মরত জাপানি কম্পানির সংখ্যা ছিল ৭০। ১২ বছর পর ২০২০ সালে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৫। জাপানের সজিত করপোরেশন মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প পার্ক করতে চাইছে। জাপানের সুমিতমো করপোরেশন জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজ করতে চুক্তি করেছে বেজার সঙ্গে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিনিয়োগ প্রতিবেদন অনুযায়ী জাপানি কম্পানিগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪০ শতাংশ।

বিনিয়োগ ছাড়া প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর সে কারণে আমাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বিনিয়োগ পরিবেশ, স্বচ্ছ আইন-কানুন ও নিয়ন্ত্রণমূলক বিধি-বিধান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর জাতীয় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা আইনের সঠিক প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। বেরিয়ে আসতে হবে রপ্তানিপণ্যের এককেন্দ্রিকতা থেকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনশক্তি, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট যখন আমাদের অনুকূলে তখন বিদেশি বিনিয়োগ আনা খুব কঠিন হবে না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বৈশ্বিক পরামর্শক সংস্থা প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের (পিডাব্লিউসি) একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ কম্পানি বাণিজ্যযুদ্ধ এড়ানো, মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় কমাতে চীন ছাড়তে চাইছে। এই সুযোগ বাংলাদেশ নিতে পাারে।

বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলেআমরা আশাবাদি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *