মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অবহেলা
বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত হোক
গণমাধ্যমে প্রকাশিত শীর্ষ শিরোনাম ছিল ‘১৬ ঘণ্টা ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন মুক্তিযোদ্ধা’। শুক্রবার এই খবর পড়তে হয়েছে সবারই। কিন্তু কেন? যে মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে একটি দেশ আমাদেরকে উপহার দিয়েছেন তাদের প্রতি রাষ্ট্রের কি কিছু করার নেই? সব জনগণেরই নাগরিক অধিকার রয়েছে। আমরা জানি, দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের পরিবার, যারা জীবনবাজি রেখে পাক হানাদারদের পরাজিত করেছেন তাদের প্রতিও একটু আলাদা সম্মান দেখানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিয়ে কথা বলেন। তাদের জন্য বিশেষ ভাতাসহ নানা সুবিধাও তিনি দিয়েছেন। যা এর আগে কোনো সরকারই দেয়নি বা দেয়ার আগ্রহ দেখায়নি।কিন্তু আফসোস ও পরিতাপের বিষয় হলো, ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি বাসাবো মাঠে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট অস্ত্র সমর্পণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলমাছ উদ্দিন বিনা চিকিৎসায় চিরবিদায় নিলেন স্বাধীনতার মাসে। ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলেও করোনা সন্দেহে বিনা চিকিৎসায় তিনি মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
রোববার সকালে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার দুই ছেলে আরিফ হাসান ও আশফাক আহমেদ। করোনা সন্দেহে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বারডেম হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, পপুলার হাসপাতালে ও কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল ভর্তি করেনি বলে জানান মরহুমের বড় ছেলে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টায় মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানেই রোববার সকালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পরে ডেথ সার্টিফিকেট দেয়া হলো ব্রেইন স্ট্রোক। পরের দিন বাদ জোহর বাসাবো মাঠে নামাজে জানাজার পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মাদারটেক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।
মৃত্যুকালে তিনি সহধর্মিণী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। মরহুমের তিন সন্তানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। মেয়েটি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক যুগ্মমহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুধু মুক্তিযোদ্ধা কেন, কোনো রোগীর ক্ষেত্রেই এমনটা হওয়া উচিত নয়।
চিকিৎসক একজন মহান সেবক। সবার মাথার উপরের তাজ। তাদের প্রতি সমাজের মানুষদের আস্থা ও বিশ্বাস নিহিত। যদি এমন ঘটনার জন্ম দেন তারা তাহলে দেশের মানুষ কাদের প্রতি আস্থা রাখবে? প্রকৃত ঘটনাটা কী? তা তদন্ত করেই বের করা উচিত বলে মনে করছি আমরা। হাসপাতাল কি কোনো বুর্জোয়াদের হাতে চলে গেছে। তারা কোনো কারণ ছাড়াই গেট থেকে একজন রোগীকে ফিরিয়ে দেয়ার সাহস পায় কীভাবে? দেশের মানুষদের নিরাপত্তার জন্যই দেশের জন্য লড়াই করা এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি চিকিৎসা অবহেলার সুবিচার কাম্য।
– মাসউদুল কাদির


