বিভাগীয় শহরে ক্যানসার চিকিৎসার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

বিভাগীয় শহরে ক্যানসার চিকিৎসার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ক্যানসার একটা মহামারীর পর্যায়ভুক্ত রোগ। এই রোগও এখন সারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করতে পারলে তা নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব। এই আশার কথার মধ্য দিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় দারুণ এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রতিটি বিভাগীয় শহরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। সারাবিশ্বে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। উন্নত বিশ্বে ক্যানসার এখন হৃদরোগের পরই রয়েছে। বাংলাদেশেও ক্যানসারের হার বেড়ে চলেছে। এ রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। অথচ বিভিন্ন রকম ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হলে অল্প খরচে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু দেশে সর্বত্র এ রোগের চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা না থাকায় সাধারণত রোগ অনেক দূর ছড়িয়ে যাওয়ার পরই ধরা পড়ছে। এতে ব্যয় এবং মৃত্যুহার উভয়ই বাড়ছে। এভাবে একজন ক্যানসার রোগীর কারণে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এদিক থেকে সরকার একটি ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

আশা করা যায়, এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দূর-দূরান্তের রোগীদের ক্যানসার নির্ণয় ও তার চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যাবে। তবে হাসপাতাল স্থাপনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং দক্ষ টেকনিশিয়ান ও সেবক তৈরি করতে হবে। নতুবা ভবন তৈরি ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ই সার হবে, লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে না।
প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্প গ্রহণ করার সময় ভেজাল খাবারসহ নানা কারণে ক্যানসারের প্রকোপ বৃদ্ধির কথা বলেছেন।

দেশে দুধ, ডিম, মাছ, সবজি, ফলমূলের মতো প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন আহার্যগুলোও আর নিরাপদ নয়। নিরাপদ খাদ্য আইন হয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা আইনও রয়েছে কিন্তু সবার জন্য সুষম নিরাপদ খাদ্য আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। বাজারের ওপর সরকারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে দাম বেড়ে চলেছে। মাঝখানে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে। ক্যানসার ও অন্যান্য মারাত্মক রোগ কমাতে হলে খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করতে হবে, পানি ও বাতাসের দূষণ রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে, ওষুধের মান ও মেয়াদ ঠিক রাখতে হবে। অর্থাৎ সব ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। জনসচেতনতা যেমন রোগের প্রকোপ কমাতে পারে তেমনি ভেজাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হবে।

আমরা মনে করি, সরকার ইচ্ছা করলেই দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করতে পারে। আর এই সচেতন ও উদ্দীপ্ত জনমানুষই নিজেদের কল্যাণ সাধন করতে সক্ষম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *