সচিবালয় বৈঠকীর পর খুলবে কওমি মাদরাসা?
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের অফিস আদালতসহ সব প্রতিষ্ঠানই খোলে দেয়া হয়েছে। মানুষ নিজেদের চাকুরিবাকরি শুরু করেছে। লকডাউনের অলস সময়ও কেটে গেছে। কিন্তু দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তালাবদ্ধ। বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া নেতৃবৃন্দের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সরকার দেশের হিফজ ও নাজেরা খানা খুলে দিলেও কিতাব বিভাগ এখনো তালাবদ্ধ। কওমি শিক্ষকগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কখন মাদরাসা খোলার ঘোষণা আসবে। আবার অনেকে হিফজখানার উপর ভর করে কিতাব বিভাগও খুলে দিয়েছেন এমন খবরও আসছে। কিন্তু নেতৃত্বদানকারী আলেমগণ এভাবে খুলতে আগ্রহী নয়।
তারা সরকারের ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন বলে জানা গেছে। এখন সবার চোখ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে এ সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠকের উপর। এ বৈঠকের পর কী মাদরাসা খুলে যাবে? এমন প্রশ্ন করে পাথেয়কে ফোনও করেছেন অনেকে। সোমবার বৈঠকে কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাদ্রাসা খুলতে চান সে সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা সরকারের কাছে জমা দেবেন আলেমদের প্রতিনিধিরা।
বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তারা।
জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সহ-সভাপতি ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ ও মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ এবং বোর্ডের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলীসহ কওমি আলেমদের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মাদ্রাসা খোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি ‘অনুরোধবার্তা’ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে জমা দেবেন আলেমরা।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সহ-সভাপতি ড. মুশতাক আহমদ। তিনি বলেন, আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জুলাই থেকে দেশের সব হাফিজিয়া মাদ্রাসা চালুর অনুমতি দিয়েছে সরকার। সে ধারাবাহিকতায় কোরবানির আগে মাদ্রাসার অন্য বিভাগগুলো খোলারও অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন অনুমতি দেয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, করোনা মহামারীর কারণে দেশের প্রায় ২২ হাজার কওমি মাদ্রাসার ২৫ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী গত শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক পরীক্ষা দিতে পারেনি। ঈদুল ফিতরের পর কওমি মাদ্রাসাগুলোর নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও করোনার কারণে তা স্থগিত রাখা হয়।


