বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় রহমত : আল্লামা মাসঊদ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : টঙ্গীর ময়দানে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্ব ইজতেমার আবহাওয়াকে আল্লাহ তাআলা যেনো আম করে দেন এই আর্জি পেশ করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেক রহমতের বিষয় হলো, এ দেশে তাবলীগ জামায়াতের বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে। এর আবহওয়াকে আল্লাহ যেনো আম করে দেন। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের দুরবস্থার কঠিন সময়ে বাংলাদেশের বিশ্ব ইজতেমা একটি বড় রহমত।
বর্তমানে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আগের সেই রূহ বিশ্ব ইজতেমায় নেই জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, বিচ্ছিন্নতায় কোনো রহমত নেই। আগে একত্র হয়ে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজনে যে রূহ ছিলো তা এখন নেই। আমরা দুআ করি, যেনো আবার তারা একত্র হয়ে যায়। দ্বীনের জন্য বিশুদ্ধ নিয়তে কুরবানী করার তাওফিক যেনো আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দান করেন।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর এই খলীফা শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
দ্বীনের রাস্তা কখনো সংকিংর্ণ নয় দাবি করে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, দ্বীনের রাস্তা প্রশস্ত। সবার জন্য দরজা খোলা। কারও জন্য বন্ধ নয়। কিন্তু আমরা নিজেরা সংকির্ণ চিন্তা করি। দ্বীনের পথকেও সংকিংর্ণ করে রাখি।
দাওয়াতকে ইসলাম প্রচারের অন্যতম একটি মাধ্যম উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, দাওয়াতের অনেক পথ। কেবল তাবলীগই নয়। শুধু তাবলীগ ইসলাম প্রচারের পথ নয়। বরং আরও অনেক অনুষঙ্গ আছে যা ইসলাম প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। হযরত ওমর রা। নিজের বোন ফাতেমার কোরআন তেলাওয়াত শোনে ইসলামগ্রহণ করেছেন। আবার কোনো দাওয়াত ছাড়াই অনেকে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন কেবল সাহাবায়ে কেরামেরে ভালো আচরণের কারণে। এখনো আচরণের ক্ষমতা অনেক বেশি। অনেকে মোআমালা-মোআশারার কারণেও অনেক ইসলাম গ্রহণ করতে দেখা যায়।
ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, হিদায়াত আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় দান। একে কারও জন্য সুনির্দিষ্ট করে দেয়ার অধিকার কারও নেই। আল্লাহ কাকে কীভাবে হেদায়াত দেবেন এটা কেউ জানে না। কেউ দাওয়াতের মাধ্যেমে হেদায়াত পায় আবার কেউ কুস্তির মাধ্যমেও হেদায়াত পায়। তবে দাওয়াত সবখানে বড় ভূমিকা রাখে। দাওয়াতের আলাদা একটা মেজাজ আছে। আজ আমরা সেই মেজাজ ভুলে গেছি। দাওয়াতের ক্ষেত্রে কোনো অপপ্রচারও গ্রহণযোগ্য নয়।


