পাথেয় ডেস্ক : বিয়ে রেজিষ্ট্রির পূর্বে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া এবং মাদকের অস্তিত্ব সম্পর্কে মেডিকেল সার্টিফিকেট দাখিল কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট সৈয়দা শাহীর আরা লাইলীর পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভুইয়া।
বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ এবং ৩২নং ধারায় নাগরিক জীবন রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাষ্ট্রকে গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে এই মর্মে আইনজীবী রিট পিটিশনে উল্লেখ করেন।
থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই রোগে আক্রান্ত কোনও নারীর বিবাহ হলে অনাগত সন্তান বিকালাঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা আছে এই মর্মে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত রিটে উল্লেখ করেন তিনি।
রিটে আরও বলা হয়, রিটে বলা হয়, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের সালিশী পরিষদের তথ্য অনুযায়ী নারীদের অভিযোগের কারণ হচ্ছে বিবাহের অক্ষমতা (পুরুষত্ব হীনতা)। হিরোইন, ইয়াবা এলকোহলসহ বিভিন্ন মাদক সেবনে বিবাহের সক্ষমতা (পুরুষত্ব) পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ মাদকে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ ভাগ তরুণ। বিভিন্ন পরিসংখ্যান মতে, বর্তমান বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ মাদকাসক্তি।
বিদ্যমান নিকাহনামার ৩ ও ৪ নং দফায় বর ও কনের জন্ম সনদের পাশাপাশি ১৭নং দফায় ডাক্তারী সার্টিফিকেট (ডোপ টেষ্ট সার্টিফিকেট) বাধ্যতামুলক হলে বর-কনের ভবিষৎ সংসার এবং অনাগত সন্তানের জীবন রক্ষা পাইবে বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভুইয়া বলেন, জনস্বার্থে আমরা রিট আবেদনটি দাখিল করেছি। বিচারপতি আশফাকুল কামালের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানি করা হবে।
মন্ত্রী পরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক(আইজিপি)সহ সংশ্লিষ্টদেরকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
সংবিধানের ২১ (১)অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃংখলা রক্ষা করা নাগরিক দায়িত্ব পালন করা, এবং জাতীয় সম্পত্বি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
সংবিধানের ২১ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সকল সময়ে জনগনের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যাক্তির কর্তব্য।
সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে আইনানুয়ায়ী ব্যাতিত জীবন ও ব্যাক্তি স্বাধীনতা হইতে কোন ব্যাক্তিকেবঞ্চিত করা যাইবে না।


